রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি গোলাম পরওয়ারের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম

আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি গোলাম পরওয়ারের

ফাইল ছবি

খুলনায় আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের প্রতি কড়া সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ধরনের বিদেশি প্রভাব বা আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না। সরকার যদি জাতীয় স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো শক্তির কাছে নতি স্বীকার করে, তবে জনগণ তা মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের জনগণ পরিবর্তনের প্রত্যাশায় যে রায় দিয়েছে, তার যথাযথ বাস্তবায়ন এখনও দৃশ্যমান নয়। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে রাষ্ট্র সংস্কার, ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, ক্ষমতায় যাওয়ার পর তা থেকে সরে আসা হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, গণভোটে জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সীমারেখা নির্ধারণ, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ভারসাম্য সৃষ্টি এবং গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে দলীয় প্রভাবমুক্ত নিয়োগের পক্ষে মত দিয়েছে। কিন্তু সেই সংস্কার প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়নে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

সমাবেশে তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সমাবেশে যোগ দিতে আসা কিছু নেতাকর্মীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি এ ধরনের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে রাজনৈতিক সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।

সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য নেতারাও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে দেশজুড়ে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা তাদের বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের চাপ বা প্রভাব প্রতিহত করতে রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!