প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম
জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রের সকল তদন্ত সংস্থা, গোয়েন্দা বিভাগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করে তার আর্থিক কার্যক্রম যাচাই করা হোক। যদি এক টাকারও অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তিনি স্বেচ্ছায় সংসদ সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণে তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। কিন্তু এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য কিংবা প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে। তবে ব্যক্তিগত চরিত্রহনন কিংবা অসত্য তথ্য প্রচারের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার সংস্কৃতি কখনোই ইতিবাচক নয়। তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে তথ্যভিত্তিক সমালোচনার পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সব ধরনের জবাবদিহিতার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত করে সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানান তিনি। তার দাবি, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা থেকে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন এবং স্বচ্ছতার প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না।
সংসদে দেওয়া তার এই বক্তব্যের পর উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি হয়। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে অন্য কোনো সদস্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বাজেট আলোচনার পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলে হাসনাত আবদুল্লাহর এই বক্তব্য নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে এমন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়াকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন।



