রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সরকারকে কঠোর বার্তা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬, ১০:০৬ এএম

সরকারকে কঠোর বার্তা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

ছবি: সংগৃহীত

গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়ের প্রতিফলন ঘটিয়ে রাষ্ট্রীয় সংস্কার কার্যকর না হলে সরকারবিরোধী আন্দোলনের পথে নামার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ও শহীদদের আত্মত্যাগকে উপেক্ষা করা হলে রাজপথেই এর জবাব দেওয়া হবে। শহীদদের রক্তের সঙ্গে কোনো ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে এগারো দলীয় ঐক্যজোটের বড়লেখা উপজেলা শাখা।

বক্তব্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করেছে। সেই আন্দোলনে বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছেন এবং অসংখ্য পরিবার স্বজন হারিয়েছে। তাদের প্রত্যাশা ছিল রাষ্ট্রব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।

তিনি দাবি করেন, সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে জনগণের বড় একটি অংশ পরিবর্তন ও সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। কিন্তু সেই জনমতের যথাযথ প্রতিফলন ঘটানোর পরিবর্তে সরকার সংস্কার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ অবস্থায় জনগণের দাবিকে সামনে রেখে দেশজুড়ে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন বিভাগে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং আগামী দিনে সিলেট বিভাগেও বৃহৎ সমাবেশের আয়োজন করা হবে। তিনি বলেন, জনগণের মতামত বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বিচার প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, কোনো ধরনের প্রতিহিংসার রাজনীতিতে তারা বিশ্বাস করেন না। আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সব ধরনের অভিযোগের নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে তিনি মত দেন। একই সঙ্গে অতীতের বিভিন্ন ঘটনার বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানান।

পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি। তার মতে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতের কূটনৈতিক সম্পর্ক পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন। দেশের স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা সহিংসতা প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্র সংস্কার, গণতন্ত্র, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সফরকে কেন্দ্র করে বড়লেখা শহরে কিছু সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শহরে প্রবেশের সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারী স্লোগান দেন। পরে তার গাড়িবহরের অগ্রযাত্রায় বাধার চেষ্টা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!