প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
গণভোটে জনগণের দেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রশ্নে কোনো ধরনের বিলম্ব বা অজুহাত গ্রহণ করা হবে না বলে সরকারের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের রায় উপেক্ষা করার সুযোগ কারও নেই এবং প্রয়োজন হলে এই দাবি আদায়ে সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।
রোববার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ শীর্ষক প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নে আন্তরিক নয়। তাঁর দাবি, স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, গুম তদন্ত কমিশন এবং নির্বাচন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও স্বাধীন করার বিষয়ে সরকার পিছিয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে মত দিয়েছে, সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন রাষ্ট্র পরিচালনায় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত না হলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জনগণের বিশ্বাস ও প্রত্যাশাকে সম্মান জানিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, রাজনৈতিক সুবিধা বা কোনো ধরনের প্রলোভনের বিনিময়ে জনগণের রায়ের সঙ্গে আপস করবে না তাঁর দল।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, সেই আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন। তিনি মনে করেন, এই লক্ষ্য পূরণে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও জবাবদিহিমূলক ও স্বাধীনভাবে পরিচালিত হতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ নিয়েও মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক সহিংসতা, ভয়ভীতি বা জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি আর ফিরে আসা উচিত নয়। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, স্বাধীন ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শেষে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা বাস্তবায়নে তাঁদের রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। সংসদে কিংবা রাজপথে—যেখানেই প্রয়োজন হোক না কেন, জনগণের দাবির পক্ষে তাঁদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।



