রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

২৪-এর আন্দোলন ফাইনাল যুদ্ধ নয়, এটা ছিল যুদ্ধের রিহার্সেল: জামায়াত আমির

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৩, ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম

২৪-এর আন্দোলন ফাইনাল যুদ্ধ নয়, এটা ছিল যুদ্ধের রিহার্সেল: জামায়াত আমির

সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনকে চূড়ান্ত লড়াই হিসেবে দেখলে ভুল হবে। তার ভাষায়, ওই আন্দোলন ছিল সামনে আসা বড় লড়াইয়ের প্রস্তুতি বা মহড়া।

রোববার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের মিলনায়তনে আয়োজিত সীরাতুন্নবী (সা.) বিষয়ক সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে যারা রাজপথে নেমেছিলেন, তারা এখনো সচেতন রয়েছেন। তারা কেউ হারিয়ে যাননি কিংবা সবকিছু ভুলে ঘুমিয়ে পড়েননি। তার দাবি, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণের মধ্যে যে জাগরণ তৈরি হয়েছে, সেটি এখনো বিদ্যমান।

তিনি বলেন, কোনো বড় সংঘাত বা লড়াইয়ের আগে যেমন প্রস্তুতি নেওয়া হয়, বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং মহড়া চালানো হয়, তেমনি ২০২৪ সালের আন্দোলনকেও সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা উচিত। তাই ওই আন্দোলনকে চূড়ান্ত পরিণতি মনে না করে সামনে আরও পরিবর্তনের প্রত্যাশা রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াত আমির আরও বলেন, ২০২৪ সালের পর দেশে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম দূর হবে বলে তারা আশা করেছিলেন। কিন্তু তার মতে, সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে আগের সমস্যাগুলো আরও জটিল হয়েছে।

ফ্যাসিবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ক্ষমতার অপব্যবহার ও দমন-পীড়নের প্রবণতা অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তার অভিযোগ, আগের সরকারের সময় যে পথে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে, বর্তমান সরকারও অনেক ক্ষেত্রে একই পথে এগোচ্ছে। তিনি এই প্রবণতা থেকে বের হয়ে ভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কৃতির পথে যাওয়ার আহ্বান জানান।

জুলাই জাদুঘর নিয়েও বক্তব্য দেন শফিকুর রহমান। তার অভিযোগ, সেখানে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা ও ব্যক্তিদের স্মৃতি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতিহাস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কোনো দল বা গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা না দিয়ে সব পক্ষের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও নির্যাতনের ঘটনাগুলো তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও বিশ্বপরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী শক্তিশালী হয়নি। একটি দেশের নাগরিকদের আন্তর্জাতিক চলাচল ও মর্যাদার ক্ষেত্রে পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব বক্তব্য দেন। বক্তারা ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!