প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ১১:৫০ এএম
বাংলাদেশে কোরআনের বিধান প্রতিষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি হবে না এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত এক দাওয়াতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশকে মুক্ত ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করতে হবে। তাঁর বক্তব্যে কোরআনের বিধান প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ উঠে আসে। তবে তিনি বলেন, এ ধরনের পরিবর্তনের সঙ্গে দেশের মানুষকে সম্পৃক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু আইন বা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করলেই হবে না, মানুষের নৈতিক ও আত্মিক উন্নয়নও প্রয়োজন।
তিনি বলেন, কোরআনের বিধান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মানুষ যেন নিজেদের সেই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দেখতে পারে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠার সৌভাগ্য যেন সবাই লাভ করতে পারেন—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
জামায়াত আমির আরও বলেন, ধর্মের ভিত্তিতে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে অশান্তি তৈরি করার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। বরং ইসলামের শিক্ষা অনুসরণ করে বাস্তব জীবনে সম্প্রীতি ও শান্তির দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চান তারা। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থান বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
কওমি শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন শফিকুর রহমান। তিনি জানান, তারা কওমি আলেম ও শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে দেখেন না। তাদের অধিকার ও স্বার্থের বিষয়ে জাতীয় সংসদে কথা বলাকে নিজেদের দায়িত্ব বলে মনে করেন।
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে তাদের অধিকারের কথা বলা হয় না। বরং নিজেদের নৈতিক দায়িত্ব ও বিবেকের তাগিদ থেকেই এ বিষয়ে কথা বলেন তারা। ভবিষ্যতেও এ অবস্থান অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল। অনুষ্ঠানে দলের মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল মান্নান, কর্মপরিষদ সদস্য জয়নুল আবেদিন এবং সাবেক বিচারপতি সাঈদ শাহেদুর রহমানসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।



