প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় জনগণের আস্থা ধরে রাখা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, যারা নতুন রাজনৈতিক কাঠামো বা রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা বলছেন, তাদের উচিত সেই পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা। জনগণের সমর্থন অর্জনের একমাত্র পথ হচ্ছে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতি।
রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই : প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও প্রতিযোগিতা থাকবেই। তবে জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সব রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে ঐক্য থাকা জরুরি। তাঁর মতে, বিভাজনমূলক বক্তব্য ও সংঘাতের রাজনীতি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং অতীতের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ফিরে আসার ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
বিচার বিভাগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রকৃত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। পূর্ণ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার আগে বিচারকদের জবাবদিহি নিয়ে আলোচনা যথাযথ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি আইন প্রণয়নে আইনসভার এবং বাস্তবায়নে প্রশাসনের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব বিচার বিভাগের ওপরই বর্তায়।
রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কেবল নতুন আইন প্রণয়ন করলেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না। প্রয়োজন হলে সংবিধানে সংশোধন এনে রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সময়ে জারি হওয়া বহু অধ্যাদেশ ইতোমধ্যে আইনে পরিণত হয়েছে এবং যেসব বিষয়ে আরও পরিমার্জনের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত নিয়ে ভবিষ্যতে সংশোধন করা হবে।
গণভোট প্রসঙ্গেও তিনি বক্তব্য দেন। তাঁর ভাষ্য, সাম্প্রতিক গণভোট সাংবিধানিক বিধান অনুসারে অনুষ্ঠিত হয়নি; বরং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তা আয়োজন করা হয়েছিল। ফলে এর সাংবিধানিক অবস্থান নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার, গুম প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি দমনসহ গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করা হবে। তবে দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বাস্তবতাকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে এসব আইন চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান তিনি।



