প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ০২:২৪ পিএম
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় রাজনৈতিক ঐক্য থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে খেলাফত মজলিস। দলের কেন্দ্রীয় শুরা পরিষদের তৃতীয় সাধারণ সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে জোটের সব কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, ১১ দলীয় ঐক্য মূলত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গঠিত একটি নির্বাচনী সমঝোতা ছিল। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সেই সমঝোতার কার্যকারিতা স্বাভাবিকভাবেই শেষ হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। যদিও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কয়েকটি কর্মসূচিতে খেলাফত মজলিস অংশ নিয়েছিল, তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই ধারাবাহিকতা আর বজায় রাখার প্রয়োজন দেখছে না দলটি।
সভা শেষে প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে জানানো হয়, এখন থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের কোনো কর্মসূচিতে খেলাফত মজলিস অংশ নেবে না। তবে দেশ, জাতি ও ইসলামের স্বার্থে ভবিষ্যতে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজন দেখা দিলে সে বিষয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে দলটি নিজেদের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্বাধীনভাবে পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরেই ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন কর্মসূচি থেকে খেলাফত মজলিস দূরত্ব বজায় রেখে চলছিল। এর আগে জোটের সমাবেশ ও প্রচারসামগ্রীতে দলের নাম ব্যবহার না করার অনুরোধও জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই অনুরোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে জোটের পক্ষ থেকেও দলের নাম ব্যবহার বন্ধ করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কওমি ধারার বিভিন্ন ইসলামি দলের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক সমন্বয়ের আলোচনা শুরু হওয়ায় ইসলামপন্থী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় কয়েকটি দল নিজেদের অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করছে। খেলাফত মজলিসের এই সিদ্ধান্তও সেই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, নির্বাচনী জোট থেকে সরে এলেও ভবিষ্যতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে নতুন ধরনের সমঝোতা বা বৃহত্তর ঐক্যের উদ্যোগ দেখা যেতে পারে। ফলে বর্তমান সিদ্ধান্তকে কেবল জোটত্যাগ হিসেবে নয়, বরং নতুন রাজনৈতিক কৌশলের সূচনা হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে।



