রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান স্মরণ করলেন নাহিদ ইসলাম

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান স্মরণ করলেন নাহিদ ইসলাম

সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ভূমিকার কথা স্মরণ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক, এক দফার ঘোষক ও বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আন্দোলনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তারা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মিছিলের অপেক্ষায় থাকতেন। তাঁর ভাষায়, আন্দোলনের মাঠে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সাহস ও অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছিল।

সোমবার (২৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের লক্ষ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অবদান রেখেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তবে তাদের অনেক অবদান জাতীয় পর্যায়ে যথাযথ মূল্যায়ন পায়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ কেবল স্মরণ করার জন্য নয়, বরং বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্যও সবাইকে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নৈতিকতা, সাহস এবং দায়িত্ববোধ নিয়ে দেশ গঠনে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইকরামুল হক সাজিদের মা আবেগঘন বক্তব্য রাখেন। তিনি সন্তানের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, একজন শহীদের মা হিসেবে তিনি গর্বিত হলেও সন্তানের শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তাঁর বক্তব্যে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। বক্তারা শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা ও বৈষম্যমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, অবকাঠামো ও সামগ্রিক উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল ন্যায়, সমতা ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথাও তারা উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষাংশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয় এবং তাদের আদর্শ ধারণ করে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!