প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২৬, ০২:২০ পিএম
রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হস্তক্ষেপ করতে হয়। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের সময় এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বনির্ধারিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী চলাকালে একদল শিক্ষার্থী বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে স্লোগান দিতে শুরু করলে অনুষ্ঠানের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে বিষয়টি নিয়ে দুই ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের সময় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে উভয় পক্ষের অবস্থান নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনার একপর্যায়ে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের কয়েকজন প্রতিনিধি, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির এক সদস্যও রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে আহতদের সবার পরিচয় ও শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ, প্রশাসনিক ভবন এবং কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের আশপাশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
এদিকে ঘটনার প্রকৃত কারণ, দায়ীদের ভূমিকা এবং সংঘর্ষের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্ট ছাত্রসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।



