রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জবিতে প্রেমিকের মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

জবিতে প্রেমিকের মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা

সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী প্রত্যাশা মজুমদার অথৈর আত্মহত্যার ঘটনায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রেমিকের ধারাবাহিক মানসিক নির্যাতন, অপমানজনক আচরণ এবং মানসিক চাপের কারণেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন, ঘটনার আগে দীর্ঘ সময় ধরে অভিযুক্ত ইয়াছিন মজুমদারের সঙ্গে অথৈর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। বিভিন্ন সময় অপমানজনক মন্তব্য, মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং প্ররোচনামূলক আচরণের ফলে তিনি চরম হতাশার মধ্যে পড়ে যান। তদন্তে সংগৃহীত সাক্ষ্য, আলামত ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এ অভিযোগ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ঘটনার পরদিন নিহত শিক্ষার্থীর বাবা মেয়েকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরবর্তীতে আদালতে নির্ধারিত সময়ে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে জানা যায়, অভিযুক্ত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

নিহতের বাবা বলেন, মেয়েকে হারানোর শোক আজও কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তিনি জানান, ছোট মেয়েকে উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্ন ছিল পরিবারের। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার পরিকল্পনাও করেছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে গেছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ সরাসরি জানা সম্ভব না হলেও তদন্তে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য, সাক্ষ্য এবং ঘটনার ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে মানসিক নির্যাতনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে মামলার বিভিন্ন বিষয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে কিছু আলামত ও তথ্য নিয়ে উভয় পক্ষ ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তার ভাষ্য, যাচাই-বাছাই শেষে যেসব তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেছে, সেগুলোর ভিত্তিতেই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

এই ঘটনা নতুন করে মানসিক নির্যাতন, সম্পর্কের সহিংসতা এবং তরুণ-তরুণীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্কের মধ্যে অব্যাহত মানসিক চাপ ও অপমানজনক আচরণ অনেক সময় ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্য, বন্ধু কিংবা সংশ্লিষ্টদের দ্রুত সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!