প্রকাশিত: আগস্ট ২, ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ঘিরে দেওয়া এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় নারী শক্তির সদস্য সচিব এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং সেই আন্দোলনের চেতনাকে ধরে রাখার কার্যক্রম কেউ ‘ব্যবসা’ বলে সমালোচনা করলেও তা অব্যাহত রাখা উচিত।
শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়ই জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে পরিচালিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে ‘ব্যবসা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সমালোচনা করে থাকে। তবে তার ভাষ্য, শহীদদের আত্মত্যাগ, আন্দোলনের ইতিহাস এবং গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে মানুষের মধ্যে জীবিত রাখার প্রচেষ্টাকে তিনি কোনো নেতিবাচক অর্থে দেখেন না। বরং এসব কর্মকাণ্ডকে স্মৃতি সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাস তুলে ধরার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন আন্দোলনে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের স্মৃতি এবং আত্মত্যাগও সমানভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। ইতিহাস ও ত্যাগের ঘটনাগুলো যেন সময়ের সঙ্গে হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যে তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, একটি রাজনৈতিক দল যদি তাদের নিজস্ব ইতিহাস ও নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করতে পারে, তাহলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি নিয়েও একইভাবে কাজ করা অস্বাভাবিক নয়। তার দাবি, এটি কোনো বাণিজ্য নয়; বরং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ।
এ সময় তিনি আরও অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালিয়ে রাজনৈতিকভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হলেও এসব কর্মকাণ্ডে তারা পিছিয়ে যাবেন না। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে তাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় নারী শক্তি, জাতীয় ছাত্র শক্তি, জেলা যুব শক্তি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



