প্রকাশিত: আগস্ট ১৪, ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় থাকার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আয়োজিত এক গণসমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, চাঁদাবাজি, দখলদারি এবং বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়নের প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগণ পরিবর্তন ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশা থেকেই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিল। গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় অনুযায়ী রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করার কথা থাকলেও সেই কাজ যথাযথভাবে এগোচ্ছে না। পুলিশ, বিচারব্যবস্থা, স্থানীয় সরকার ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটে সরকার গঠনের উদ্দেশ্য লুটপাট বা স্বজনপ্রীতি নয়। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নাগরিকদের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের পাশাপাশি চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
যাত্রাবাড়ীর পরিস্থিতি তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় মানুষ নিয়মিত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে ভুগছেন। অথচ গণঅভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ব্যক্তিরাও এখনো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যতটুকু অগ্রগতি হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জনগণ সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে দেশের সমস্যার সমাধান করার জন্য। তাই সংস্কার, বিচার ও জনজীবনের সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় জনগণ কোনো সরকারকেই ক্ষমতায় ধরে রাখবে না।
গণসমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতাকর্মী, গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তি, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।



