রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ শুরু

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম

শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ শুরু

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ শুরু হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উদ্বোধনী সমাবেশের পর চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের গাড়িবহর।

সকাল ৭টার দিকে শাপলা চত্বরে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশের সূচনা করা হয়। পরে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় জোটের বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।

কর্মসূচিতে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারাও অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ জোটের অন্যান্য নেতারা।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই লংমার্চের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের দাবি সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি জনজীবনের বিভিন্ন সংকট ও নাগরিক দুর্ভোগের বিষয়ও কর্মসূচিতে গুরুত্ব পাবে। তবে জোটের ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জোটের নেতারা মনে করছেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো একসঙ্গে সামনে তুলে ধরার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা আরও বাড়বে বলেও তারা প্রত্যাশা করছেন।

আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লংমার্চের গাড়িবহরে এক হাজারের বেশি যানবাহন থাকার কথা রয়েছে। নির্ধারিত কর্মসূচির স্থান ছাড়াও যাত্রাপথের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের উপস্থিতি বেশি হলে সেখানে গাড়িবহর থামিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দিতে পারেন। পথে বিভিন্ন এলাকা থেকে নতুন যানবাহনও বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন করে যুক্ত হওয়া যানবাহনগুলো মূল গাড়িবহরের পেছনের দিকে রাখা হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘ এই যাত্রায় গাড়িবহরের শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

লংমার্চের শেষ কর্মসূচি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা সমাপনী সমাবেশে বক্তব্য দেবেন। সমাবেশে জোটের পক্ষ থেকে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান, দাবিদাওয়া এবং পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

সমাপনী কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর শনিবার রাতেই গাড়িবহর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে ফিরে আসবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানী থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!