রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিসিবি নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না ইশরাক হোসেন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম

বিসিবি নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না ইশরাক হোসেন

ফাইল ছবি

আসন্ন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে কাউন্সিলর ও ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের সিদ্ধান্ত। তিনি জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে তিনি কোনো প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। তবে কাউন্সিলর হিসেবে ভোট প্রদানের অধিকার তিনি বজায় রাখবেন।

আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ক্রিকেট পরিচালনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সর্বশেষ ঘোষিত তথ্য অনুযায়ী, মোট ১৯২ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ১৮৪ জন তাদের কাউন্সিলরশিপ নিশ্চিত করেছেন। বিভিন্ন সংস্থা ও কয়েকটি জেলা থেকে প্রতিনিধি মনোনয়ন না আসায় আটটি পদ এখনো শূন্য রয়েছে।

নির্বাচন ঘিরে যখন বিভিন্ন পক্ষের প্রস্তুতি ও আলোচনায় সরগরম ক্রীড়াঙ্গন, তখন ইশরাক হোসেনের এই ঘোষণা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বোর্ড পরিচালনা বা নির্বাচনী কার্যক্রমে কোনো ধরনের সরাসরি অংশগ্রহণ তার নেই। তিনি কেবল একজন ভোটার বা কাউন্সিলর হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন।

গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ইশরাক হোসেন বলেন, তিনি কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তবে কোনো প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা তার নেই। তার এই অবস্থান নির্বাচনী সমীকরণে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ক্রিকেট বোর্ড নির্বাচন সাধারণত দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বড় ধরনের আগ্রহের সৃষ্টি করে। ক্লাব প্রতিনিধি, বিভাগীয় প্রতিনিধি ও বিভিন্ন সংস্থার কাউন্সিলরদের ভোটে গঠিত হয় বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদ। ফলে প্রতিটি ভোট ও অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে কাউন্সিলর তালিকা চূড়ান্ত হওয়ায় এখন মনোনয়ন ও ভোটের হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠন নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে নানা কৌশল নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইশরাকের মতো পরিচিত একজন কাউন্সিলরের প্রার্থীতা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এছাড়া জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক দুই অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মর্তুজা প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, কেউ দেশে ফিরতে চাইলে তার আগে জনসম্মুখে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করা উচিত এবং দুঃখ প্রকাশ করা প্রয়োজন। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সরকারের কাছে আবেদন করতে পারেন, এবং সরকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

তার এই মন্তব্য ঘিরেও ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দেশের দুই জনপ্রিয় ক্রিকেট ব্যক্তিত্বকে নিয়ে এমন বক্তব্য বিভিন্ন মহলে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিসিবি নির্বাচন শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়; বরং দেশের ক্রিকেট ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই কাউন্সিলরদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও অবস্থান পরবর্তী নেতৃত্ব কাঠামোতে প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ বাড়ছে। প্রার্থীদের তালিকা, ভোটের সমীকরণ এবং ক্লাব পর্যায়ের সমর্থন—সবকিছু মিলিয়ে শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে ইশরাক হোসেনের নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার সিদ্ধান্ত এবং শুধু ভোট দেওয়ার অবস্থান বিসিবি নির্বাচনের সমীকরণে একটি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!