প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদ গঠনের নির্বাচন আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনকে ঘিরে রাজধানীর মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম এলাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল পর্যন্ত চলবে। এরপর ভোট গণনা শেষে পরিচালক পদে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। একই দিনে বোর্ডের সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে আগের দিন থেকেই স্টেডিয়াম এলাকায় বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া হয়। প্রাঙ্গণে সাজসজ্জা ও আলোকায়নের মাধ্যমে উৎসবের আবহ তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ক্রিকেট প্রশাসনের আগামী দিকনির্দেশনা নির্ধারণে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবে নির্বাচন ঘিরে আলোচনা-সমালোচনারও কমতি নেই। ক্রিকেট অঙ্গনের অনেকেই মনে করছেন, এবারের নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে আনুষ্ঠানিকতার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ বোর্ডের মোট পঁচিশটি পরিচালক পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ আগেই প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। কয়েকজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ভোটের উত্তেজনা অনেকটাই কমে এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বোর্ডের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে নির্দিষ্টসংখ্যক পরিচালক নির্বাচিত হন। একইভাবে ঢাকার ক্লাবগুলোর প্রতিনিধিদের মধ্য থেকেও পরিচালক নির্বাচন করা হয়। অন্যদিকে সাবেক ক্রিকেটার, অধিনায়ক ও বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী একটি বিশেষ শ্রেণি থেকেও একজন পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এবার সেই বিশেষ শ্রেণিতে একমাত্র মনোনয়ন জমা পড়ায় একজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। এতে করে ভোটগ্রহণ ছাড়াই একটি পদ নিশ্চিত হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় নির্বাচন শুরুর আগেই অনেকের বোর্ডে জায়গা নিশ্চিত হয়ে গেছে।
জেলা ও বিভাগভিত্তিক প্রতিনিধিত্বেও রয়েছে ভিন্নতা। দেশের কিছু বিভাগ থেকে একাধিক পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ থাকলেও অন্য কিছু বিভাগে রয়েছে সীমিত প্রতিনিধিত্ব। ফলে নির্বাচনী হিসাব-নিকাশে অঞ্চলভেদে গুরুত্বের পার্থক্য স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে ক্লাবভিত্তিক শ্রেণিতে প্রতিযোগিতা তুলনামূলক বেশি হলেও শেষ মুহূর্তে প্রার্থীর সংখ্যা কমে এসেছে। যদিও অনেকের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র থাকলেও বাস্তবে বেশ কয়েকজনের জয় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গেছে। ফলে নির্বাচনটি অনেকের কাছে কেবল আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার পর্বে পরিণত হয়েছে।
ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নতুন পরিচালনা পর্ষদ দেশের ক্রিকেট উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ, খেলোয়াড় গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দিকেও নতুন নেতৃত্বের নজর থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।



