রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দায়িত্ব নেওয়ার একদিনেই পদত্যাগ বিসিবি পরিচালকের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম

দায়িত্ব নেওয়ার একদিনেই পদত্যাগ বিসিবি পরিচালকের

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের পরপরই এক অপ্রত্যাশিত ঘটনায় আলোচনায় এসেছে ক্রিকেট অঙ্গন। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র একদিনের মধ্যেই পরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন নবনির্বাচিত পরিচালক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত। সোমবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন, যেখানে ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক ব্যস্ততাকে এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচনে রাজশাহী অঞ্চল থেকে একক প্রার্থী হওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হন সীমান্ত। তবে দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই তার এমন সিদ্ধান্ত ক্রীড়াঙ্গনে নানা আলোচনা ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর কেন এত দ্রুত দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে হলো তাকে।

পদত্যাগপত্রে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত উল্লেখ করেন, পারিবারিক ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বর্তমানে তার কাঁধে এসে পড়েছে। তার পিতা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত থাকায় ব্যবসার দেখভাল এবং প্রশাসনিক বিষয়গুলো তাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা তার পক্ষে বাস্তবসম্মত নয় বলেই তিনি মনে করছেন।

তিনি আরও বলেন, দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে তিনি মনে করেছেন, সময় ও মনোযোগ দিতে না পারলে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ঠিক হবে না। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয়, সে বিষয় বিবেচনায় রেখেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।

ক্রিকেট বোর্ড সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের আগেই সীমান্ত ঘনিষ্ঠজনদের কাছে পরিচালকের দায়িত্ব না নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। যদিও পরে তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেন এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তবে শুরু থেকেই দায়িত্ব পালনে অনাগ্রহ থাকায় শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ানোর পথ বেছে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পরিচালকদের সক্রিয় ও দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন পর্ষদ গঠনের একদিনের মধ্যেই এমন পদত্যাগ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করে আগেভাগেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো এক ধরনের দায়িত্বশীল সিদ্ধান্তও হতে পারে। কারণ দায়িত্ব গ্রহণ করেও যদি তা যথাযথভাবে পালন সম্ভব না হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এখন দেখার বিষয়, শূন্য হওয়া এই পদে নতুন করে কী সিদ্ধান্ত আসে এবং রাজশাহী অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব কীভাবে নিশ্চিত করা হয়। ক্রিকেটপ্রেমীদের নজরও এখন সেদিকেই।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!