প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ০৮:১৮ এএম
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা, নাটকীয়তা আর অবিশ্বাস্য সব মুহূর্তে ভরা এক ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা অতিরিক্ত সময়েও ম্যাচের ভাগ্য একাধিকবার বদলে যাওয়ায় দর্শকদের শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াই উপহার দেয় দুই দল। শেষ মুহূর্তে বাতিল হওয়া একটি গোলই শেষ পর্যন্ত ক্রোয়েশিয়ার বিশ্বকাপ অভিযান থামিয়ে দেয়, আর পর্তুগালের জন্য নিশ্চিত করে কাঙ্ক্ষিত জয়।
প্রথমার্ধে দুই দলই আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে সুযোগ তৈরি করলেও কোনো পক্ষই জালের দেখা পায়নি। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়। তবে বিরতির পরই ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের অষ্টম মিনিটে দুর্দান্ত এক আক্রমণ থেকে গোল করে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। ইভান পেরিসিচের নিখুঁত শটে পর্তুগিজ রক্ষণ ভেদ হলে ম্যাচে প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় ক্রোয়াটরা। গোল হজম করার পর আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয় পর্তুগাল। কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো বল জালে পাঠালেও সহকারী রেফারির সংকেতে গোলটি বাতিল হয়ে যায়, কারণ আক্রমণের শুরুতে অফসাইড ধরা পড়ে।
তবে অভিজ্ঞ এই তারকাকে বেশিক্ষণ আটকে রাখা যায়নি। ম্যাচের আটষট্টিতম মিনিটে পাওয়া পেনাল্টি থেকে নির্ভুল শটে সমতা ফেরান রোনালদো। গোলের পর নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় পর্তুগাল। অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়াও পাল্টা আক্রমণে কয়েকবার বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করলেও ভাগ্য তাদের সহায় হয়নি। এক পর্যায়ে ক্রোয়েশিয়ার আরেকটি গোলও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।
পরিস্থিতি আরও নাটকীয় হয়ে ওঠে যখন রোনালদোকে বদলি করে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়। অনেকেই ভেবেছিলেন ম্যাচটি হয়তো অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে কিংবা টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি হবে। কিন্তু যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা গনসালো রামোস সুযোগ কাজে লাগিয়ে পর্তুগালকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। সেই গোলের পর গ্যালারিতে শুরু হয় উদযাপন, যেন জয় নিশ্চিত।
কিন্তু ম্যাচ তখনও শেষ হয়নি। যোগ করা সময়ের শেষদিকে আরেকটি আক্রমণ থেকে বল জালে জড়িয়ে সমতায় ফেরে ক্রোয়েশিয়া। খেলোয়াড়দের উল্লাসে মাঠ মুখরিত হয়ে ওঠে। তবে গোলটি পর্যালোচনার জন্য ভিডিও সহায়তা ব্যবস্থার আশ্রয় নেন রেফারি। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত আসে, আক্রমণের সময় একজন খেলোয়াড় অফসাইড অবস্থানে ছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল ঘোষণা করা হয়।
এই সিদ্ধান্তে মুহূর্তেই বদলে যায় ম্যাচের আবহ। পর্তুগালের খেলোয়াড়রা উল্লাসে মেতে ওঠেন, আর ক্রোয়েশিয়ার শিবিরে নেমে আসে গভীর হতাশা। শেষ বাঁশি বাজতেই শেষ ষোলো নিশ্চিত করে পর্তুগাল। অন্যদিকে লুকা মদরিচদের জন্য শেষ হয়ে যায় এবারের বিশ্বকাপের যাত্রা।
রুদ্ধশ্বাস এই লড়াই আবারও প্রমাণ করল, ফুটবলে শেষ বাঁশি বাজার আগে কোনো ফলই নিশ্চিত নয়। একাধিক বাতিল গোল, পেনাল্টি, নাটকীয় প্রত্যাবর্তন এবং শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে ম্যাচটি বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় লড়াই হিসেবে জায়গা করে নিল।



