প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৮:২৬ এএম
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছন্দময় ফুটবল খেলেছে স্প্যানিশরা। আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই ছিল তাদের আধিপত্য। ফলে শক্তিশালী ফ্রান্সকে খুব বেশি সুযোগ না দিয়েই জয়ের আনন্দে মাতে স্পেন।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখে স্পেন। অপরদিকে, ফ্রান্স মূলত পাল্টা আক্রমণের ওপর নির্ভর করলেও প্রতিপক্ষের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভেদ করতে পারেনি।
ম্যাচের ২২তম মিনিটে এগিয়ে যায় স্পেন। বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হন তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। পরে পাওয়া পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। গোল হজমের পর ফ্রান্স আক্রমণের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করলেও স্পেনের রক্ষণ তাদের সব পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়।
প্রথমার্ধে এক গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্পেন। বিরতির পরও আক্রমণের ধার বজায় রাখে তারা। ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে দারুণ এক আক্রমণ থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পেদ্রো পরো। সতীর্থের সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়ার পর নিচু শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। দ্বিতীয় গোলের পর ফ্রান্স ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি।
ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে কয়েকবার বিপজ্জনক আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে স্পেনের গোলরক্ষক এবং রক্ষণভাগ দুর্দান্ত দৃঢ়তা দেখিয়ে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। বিশেষ করে শেষ মুহূর্তে একাধিক আক্রমণ ঠেকিয়ে স্পেন নিজেদের জয় নিশ্চিত করে।
শেষ বাঁশি বাজতেই আনন্দে মেতে ওঠেন স্পেনের খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা। দীর্ঘ সময় পর আবারও বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের স্বপ্নের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেল দলটি। এখন ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী দল।
অন্যদিকে, এই হারের ফলে ফ্রান্সের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল। তবে প্রতিযোগিতা শেষ হয়নি তাদের জন্য। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে আসর শেষ করার সুযোগ থাকছে ফরাসিদের সামনে।
স্পেনের এই জয় শুধু স্কোরলাইনের দিক থেকেই নয়, পুরো ম্যাচের পারফরম্যান্সেও ছিল প্রাপ্য। আক্রমণ, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণে শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলেই তারা ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। এখন শেষ ম্যাচে জয় পেলেই আবারও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরের শিরোপা নিজেদের করে নেওয়ার সুযোগ পাবে স্প্যানিশরা।



