প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ০৬:৫১ এএম
রুদ্ধশ্বাস এক সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে পরাজিত করে সপ্তমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বলের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ গঠন এবং সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে ছিল লাতিন আমেরিকার দলটি। শেষ মুহূর্তে লিওনেল মেসির অসাধারণ দুইটি সহায়তায় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তারা।
প্রথমার্ধে দুই দলই সতর্ক ফুটবল খেলায় মনোযোগ দেয়। মাঝমাঠে ছিল তীব্র লড়াই এবং একাধিক ফাউলের কারণে ম্যাচের গতি বারবার থেমে যায়। শুরু থেকেই দুই দল শারীরিক শক্তির লড়াইয়ে একে অপরকে চাপে রাখার চেষ্টা করে। যদিও প্রথম ৪৫ মিনিটে কয়েকটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ তৈরি হলেও কোনো দলই জালের দেখা পায়নি। আর্জেন্টিনা বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ ছিল যথেষ্ট সংগঠিত।
বিরতির পর ম্যাচে প্রথম সফলতা পায় ইংল্যান্ড। খেলার ৫৪তম মিনিটে সতীর্থের নিখুঁত পাস থেকে অ্যান্থনি গর্ডন গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। পিছিয়ে পড়ার পর আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। একের পর এক আক্রমণে ইংল্যান্ডের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে মেসির দল।
এর ফল আসে ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে। লিওনেল মেসির চমৎকার পাস থেকে বল পেয়ে এনজো ফের্নান্দেস দুর্দান্ত শটে সমতা ফেরান। গোলটি আর্জেন্টিনাকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস এনে দেয় এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জয়ের জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করে।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায়, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আবারও মেসির পাস থেকে বল পেয়ে বদলি খেলোয়াড় লাউতারো মার্তিনেস নিখুঁতভাবে জালে বল পাঠান। সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা এবং শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে ফাইনালে পৌঁছে যায়।
পুরো ম্যাচে বলের দখলে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল আর্জেন্টিনার। দলটি প্রায় ৬৬ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, যেখানে ইংল্যান্ডের দখলে ছিল ৩৪ শতাংশ। আক্রমণ, পাস আদান-প্রদান এবং সুযোগ সৃষ্টিতেও এগিয়ে ছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। যদিও ম্যাচজুড়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে একাধিক ফাউল ও শারীরিক সংঘর্ষ দেখা গেছে, তবুও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাই নিজেদের পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়।
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত আটটি ম্যাচ খেলেছে আর্জেন্টিনা এবং প্রতিটি ম্যাচেই জয় তুলে নিয়েছে তারা। ধারাবাহিক এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে আরেকবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল দলটি। এর আগে ১৯৩০, ১৯৭৮, ১৯৮৬, ১৯৯০, ২০১৪ ও ২০২২ সালে ফাইনাল খেলেছিল আর্জেন্টিনা। এবার সপ্তমবারের মতো শিরোপার মঞ্চে নামতে যাচ্ছে তারা।
আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক-নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের মহারণ। সেখানে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইউরোপের আরেক শক্তিশালী দল স্পেন। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে মাঠে নামবে মেসির দল, অন্যদিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বসেরার মুকুট জিততে মরিয়া থাকবে স্পেন। ফলে ফুটবল বিশ্বের চোখ এখন ফাইনালের দিকেই।



