প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে আবারও ফাইনালের মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনায় ভরা লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে জয় উদযাপন করেছে আলবিসেলেস্তেরা। যদিও ম্যাচে নিজের নাম গোলদাতার তালিকায় তুলতে পারেননি অধিনায়ক লিওনেল মেসি, তবু দলের দুটি গোল তৈরিতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তবে জয়ের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে তাঁর আবেগঘন প্রতিক্রিয়া।
ম্যাচ শেষে মেসি এই গুরুত্বপূর্ণ জয় উৎসর্গ করেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনাকে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় মানেই আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে এক বিশেষ অধ্যায়। চার দশক আগে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার অসাধারণ নৈপুণ্য আজও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে অমলিন। সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের স্মৃতি মনে রেখেই বর্তমান অধিনায়ক নিজের দলের এই সাফল্য কিংবদন্তির প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে উৎসর্গ করেছেন।
খেলা শেষে এক সাংবাদিক ১৯৮৬ সালের সেই বিখ্যাত ম্যাচে ম্যারাডোনার পরা জার্সির প্রতিরূপ মেসির হাতে তুলে দেন। মুহূর্তটি আবেগঘন হয়ে ওঠে। প্রতিক্রিয়ায় মেসি বলেন, এই দিনটি দিয়েগোর জন্য অত্যন্ত বিশেষ এবং তিনি বিশ্বাস করেন, ওপর থেকে কিংবদন্তি এই জয় উপভোগ করছেন। তাঁর ভাষায়, এই সাফল্য দিয়েগোর জন্য একটি বিশেষ উপহার।
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার সেই ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। একই ম্যাচে তিনি বিতর্কিত হাতে করা গোল এবং একক নৈপুণ্যে করা অসাধারণ গোল—দুটি ভিন্ন কারণে ইতিহাসের অংশ হয়ে যান। সেই জয় শুধু মাঠের সাফল্য ছিল না, বরং দেশের মানুষের আবেগের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে ছিল।
বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলারদের কাছে অতীতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট হয়তো আগের মতো তীব্র নয়, কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি তাদের কাছেও ছিল আলাদা গুরুত্বের। মাঠে নামার আগে জাতীয় সংগীত চলাকালে দর্শকদের আবেগপূর্ণ সমর্থন খেলোয়াড়দের বাড়তি অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বলে জানিয়েছেন মেসি। তিনি বলেন, দর্শকদের আবেগ অনুভব করেই তারা বুঝেছিলেন এটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং কোটি মানুষের প্রত্যাশার লড়াই।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে মেসি আরও একটি অনন্য কীর্তির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। আসন্ন ফাইনালে মাঠে নামলে তিনি তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলবেন, যা বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম বিরল অর্জন। একই সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের সুযোগও তাঁর সামনে রয়েছে।
এখন পুরো আর্জেন্টিনার দৃষ্টি ফাইনালের দিকে। সমর্থকদের বিশ্বাস, ম্যারাডোনার স্মৃতি আর মেসির নেতৃত্ব একসঙ্গে মিলিয়ে আবারও বিশ্বসেরা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পারে আলবিসেলেস্তেরা। ফুটবলপ্রেমীরাও অপেক্ষায় রয়েছেন, আরেকটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সাক্ষী হওয়ার জন্য।



