প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ০৯:১২ এএম
বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন ইতিহাসের জন্ম দিলেন ফ্রান্সের তারকা উইঙ্গার মাইকেল অলিসে। পুরো আসরজুড়ে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে তিনি একক বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন সর্বোচ্চ গোলে সহায়তার কীর্তিতে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি গোলে সহায়তা করে বিশ্বকাপে তার মোট গোলে সহায়তার সংখ্যা দাঁড়ায় সাতে। এর মধ্য দিয়ে তিনি ভেঙে দেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে গড়া এক আসরে সর্বোচ্চ ছয়টি গোলে সহায়তার দীর্ঘ ৫৬ বছরের রেকর্ড।
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন অলিসে। প্রথম ম্যাচেই সতীর্থ কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। এরপর ধারাবাহিকভাবে একাধিক ম্যাচে সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়ে দলের আক্রমণভাগকে আরও কার্যকর করে তোলেন। প্রতিটি ম্যাচেই তার নিখুঁত পাস, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে দেওয়ার দক্ষতা নজর কেড়েছে ফুটবলপ্রেমীদের।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও অলিসে নিজের সেরাটা উজাড় করে দেন। তার দুটি নিখুঁত সহায়তায় ফ্রান্স গোল পেলেও শেষ পর্যন্ত জয় অধরাই থেকে যায়। শুরুতেই চার গোলে পিছিয়ে পড়া ফ্রান্স দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ইংল্যান্ডের আক্রমণ সামাল দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ৬-৪ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে ব্রোঞ্জপদক হাতছাড়া করে ফরাসিরা।
অন্যদিকে এই ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পেও ব্যক্তিগত সাফল্যের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেন। জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ২২-এ উন্নীত করেন এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় নতুন অবস্থান তৈরি করেন। ফলে ম্যাচটি একদিকে ফ্রান্সের পরাজয়ের স্মৃতি হয়ে থাকলেও ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকে অলিসে ও এমবাপ্পের জন্য হয়ে উঠেছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মাইকেল অলিসের এই রেকর্ড আধুনিক ফুটবলে সৃষ্টিশীল খেলোয়াড়দের গুরুত্ব আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর দক্ষতাই একজন খেলোয়াড়কে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে, তারই প্রমাণ দিলেন এই ফরাসি তারকা।
বিশ্বকাপে দল কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পেলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে অলিসে নিজের নাম স্থায়ীভাবে লিখে রাখলেন ফুটবল ইতিহাসে। বহু বছর ধরে অক্ষত থাকা একটি কিংবদন্তি রেকর্ড ভেঙে তিনি প্রমাণ করেছেন, বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম সেরা সৃষ্টিশীল ফুটবলার হিসেবে তার অবস্থান এখন আরও দৃঢ়।



