প্রকাশিত: আগস্ট ২, ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহ স্মৃতি পেছনে ফেলে ফুটবল মাঠে নতুন ইতিহাস লিখেছেন স্টিফেন ওস্কার রামোস, যিনি ‘কিকি রামোস’ নামেই বেশি পরিচিত। হাইতির এক এতিমখানা থেকে যাত্রা শুরু করা এই তরুণ এখন আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। অভিষেক ম্যাচেই গোল করে তিনি নিজের অসাধারণ সম্ভাবনার জানান দিয়েছেন।
দুই হাজার নয় সালে হাইতির রাজধানী পোর্ত-অ-প্রাঁসে জন্ম নেওয়া রামোসের শৈশব ছিল অত্যন্ত কষ্টের। জন্মের অল্প সময় পরই তাঁকে একটি এতিমখানায় আশ্রয় নিতে হয়। পরের বছর ভয়াবহ ভূমিকম্পে হাজারো মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় তিনিও মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছিলেন। তবে ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান।
পরে এক আর্জেন্টাইন দম্পতি তাঁকে দত্তক নেন এবং মাত্র নয় মাস বয়সে তিনি আর্জেন্টিনায় চলে আসেন। নতুন পরিবার, নতুন পরিবেশ এবং নতুন জীবনেই বড় হয়ে ওঠেন রামোস। সেখান থেকেই ফুটবলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা গড়ে ওঠে।
আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী একটি ক্লাবের বয়সভিত্তিক দলে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে জাতীয় দলের নির্বাচকদের নজরে আসেন তিনি। সাম্প্রতিক এক প্রস্তুতি ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে অভিষেক হয় তাঁর। প্রথম ম্যাচেই একটি দৃষ্টিনন্দন গোল করে দলকে জয় এনে দিয়ে আলোচনায় উঠে আসেন এই তরুণ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে কিছু বর্ণবাদী মন্তব্য ছড়িয়ে পড়লেও রামোস তা গুরুত্ব দেননি। বরং তিনি জানান, আর্জেন্টিনাতেই তিনি নিজের পরিচয়, ভালোবাসা এবং স্বপ্ন খুঁজে পেয়েছেন। তাঁর ভাষায়, তিনি নিজেকে একজন পূর্ণাঙ্গ আর্জেন্টাইন হিসেবেই অনুভব করেন এবং দেশটির মানুষের কাছ থেকে সবসময় ভালোবাসা পেয়েছেন।
এই অভিষেকের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে বিরল এক কৃতিত্বের অংশ হয়ে গেছেন কিকি রামোস। বয়সভিত্তিক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্বকারী প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবলার হিসেবে তিনি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন। আগামী অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রস্তুতি দলে জায়গা পাওয়ায় তাঁর প্রতি প্রত্যাশাও বেড়েছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, কঠিন জীবনসংগ্রাম জয় করা এই তরুণ ভবিষ্যতে আর্জেন্টিনার ফুটবলের অন্যতম বড় সম্পদ হয়ে উঠতে পারেন।



