প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
আন্তর্জাতিক ফুটবলে লিওনেল মেসির দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের সমাপ্তির ঘোষণার পর তাকে বিশেষভাবে সম্মান জানানোর উদ্যোগ নিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল কর্তৃপক্ষ। দেশের সব পর্যায়ের পুরুষ ও নারী ফুটবলের ম্যাচে মেসির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নির্দিষ্ট সময়ে এক মিনিটের জন্য খেলা থামিয়ে করতালি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে নেওয়া এই উদ্যোগে দেশটির ফুটবল অঙ্গনে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। জাতীয় দলের হয়ে দুই দশকের বেশি সময় ধরে খেলা এই তারকার বিদায়কে সাধারণ কোনো অবসর হিসেবে দেখছে না আর্জেন্টিনা। বরং দেশের ফুটবলের অন্যতম সেরা অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে তার বিদায়কে স্মরণ করতে চায় তারা।
আর্জেন্টিনা ফুটবল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সামনে জাতীয় দলের হয়ে পুরুষ ও নারী—উভয় বিভাগের বিভিন্ন বয়স ও পর্যায়ের ম্যাচে প্রথমার্ধের দশম মিনিটে খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ওই সময় মাঠের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও দর্শকরা মেসির সম্মানে করতালির মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানাবেন। যেসব স্টেডিয়ামে ভিডিও প্রদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে, সেসব মাঠে ম্যাচ শুরুর আগেও মেসির ফুটবলজীবনের স্মরণীয় মুহূর্ত নিয়ে বিশেষ ভিডিও প্রদর্শনের কথা রয়েছে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে মেসি নিজেই তার ভক্তদের আবেগে ভাসিয়েছেন। জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ পথচলার পর নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের জার্সিতে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার পর এখন বিদায়ের সময় এসেছে। তার এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে তার দুই দশকেরও বেশি সময়ের অসাধারণ যাত্রার সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।
২০০৫ সালের আগস্টে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয়েছিল মেসির। এরপর ধীরে ধীরে তিনি পরিণত হন দলের প্রধান ভরসায়। গোল, সহায়তা, নেতৃত্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে জাতীয় দলের ইতিহাসে নিজের অবস্থান শক্ত করেন এই তারকা।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির সবচেয়ে বড় অর্জন আসে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার পূর্ণতা পায়। এর আগে কোপা আমেরিকার শিরোপাও জিতেছিলেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে তার সাফল্যের তালিকায় আরও রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শিরোপা ও ব্যক্তিগত রেকর্ড।
আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাও মেসি। জাতীয় দলের হয়ে তার গোলসংখ্যা ১২৫। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও তার দখলে। একাধিক বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, বয়স বাড়লেও বড় মঞ্চে তার প্রভাব কতটা দীর্ঘস্থায়ী ছিল।
তবে মেসির বিদায় ঘোষণার সবচেয়ে আবেগঘন দিক ছিল তার নিজের লেখা বিদায়ী বার্তা। সেখানে তিনি জাতীয় দলের হয়ে নিজের পুরো যাত্রার কথা স্মরণ করেন এবং পরিবার, সতীর্থ, কোচ, কর্মকর্তা ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দীর্ঘ পথচলায় পাওয়া ভালোবাসার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
মেসির বিদায়ের ঘোষণা আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেমীদের জন্য নিঃসন্দেহে একটি আবেগের মুহূর্ত। সেই আবেগকে আরও স্মরণীয় করে তুলতেই দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষের এই বিশেষ আয়োজন। ফলে আগামী দিনে আর্জেন্টিনার বিভিন্ন ম্যাচে দশম মিনিটে যখন খেলা থেমে যাবে এবং গ্যালারি ভেসে উঠবে করতালিতে, তখন সেই মুহূর্ত হয়ে থাকবে মেসির অসামান্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রতি এক অনন্য সম্মাননা।
আর্জেন্টিনার ফুটবলে মেসির অধ্যায় শেষ হলেও তার রেখে যাওয়া রেকর্ড, অর্জন ও স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরে সমর্থকদের মধ্যে বেঁচে থাকবে। জাতীয় দলের হয়ে তার অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নেওয়া এই উদ্যোগ তাই শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকার প্রতি ভালোবাসার প্রতীক হয়ে থাকবে।



