প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব আর টেকসই নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্পেনের শীর্ষ ফুটবল লিগের সভাপতি হাভিয়ের তেবাস। তার অভিযোগ, ইনফান্তিনোর নেওয়া বিভিন্ন পরিকল্পনা বিশ্ব ফুটবলের মৌলিক কাঠামোকে দুর্বল করছে। বিশেষ করে জাতীয় পর্যায়ের ঘরোয়া লিগগুলো এসব উদ্যোগের কারণে দীর্ঘমেয়াদে হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করেন তিনি।
এক সাক্ষাৎকারে তেবাস সরাসরি বলেন, ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের সময় শেষ হয়ে গেছে। তবে তিনি জানান, সাম্প্রতিক কোনো ঘটনা থেকে এমন অবস্থান নেননি। বরং দীর্ঘদিন ধরেই ফিফার বর্তমান নেতৃত্বের কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন পর্যবেক্ষণ করে তিনি এই মত পোষণ করছেন।
ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি তেবাসের জন্য নতুন নয়। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার নেতৃত্বে পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলে আসছেন। তার মতে, শুধু একজন সভাপতিকে সরিয়ে আরেকজনকে দায়িত্ব দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন পুরো ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার।
তেবাসের অভিযোগ, ইনফান্তিনোর বিভিন্ন পরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বিভিন্ন দেশের জাতীয় লিগগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম, আর্থিক ভারসাম্য এবং প্রতিযোগিতামূলক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফুটবল কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত নয়। বিশ্বজুড়ে ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে আরও বিস্তৃত ও ভারসাম্যপূর্ণ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
তেবাসের ভাষ্য অনুযায়ী, নেতৃত্ব পরিবর্তনের পাশাপাশি ফুটবলের পরিচালন কাঠামোতেও বড় ধরনের সংস্কার দরকার। তার মতে, শুধু বর্তমান সভাপতির পরিবর্তন ঘটিয়ে পুরোনো ব্যবস্থাকে বহাল রাখা হলে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসবে না।
এদিকে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে ইউরোপের ফুটবল অঙ্গনে সমালোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে বলে জানা গেছে। কয়েকটি দেশের ফুটবল কর্তৃপক্ষ তার নেতৃত্ব ও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। কিছু সংগঠন ভবিষ্যৎ মেয়াদে তার প্রতি দেওয়া সমর্থন নিয়েও নতুন করে অবস্থান পর্যালোচনা করছে।
তবে ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তেবাসের বক্তব্যে নতুন করে বিশ্ব ফুটবলের নেতৃত্ব, জাতীয় লিগের ভবিষ্যৎ এবং ফিফার পরিচালন কাঠামো নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।



