প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম
বিশ্বকাপের ফাইনাল ঘিরে মাঠের উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনায় শাস্তি পাওয়া আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের জন্য কিছুটা স্বস্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনের পর নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের নিয়মে পরিবর্তন অনুমোদন করেছে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় আর্জেন্টিনার তিন ফুটবলার লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মোলিনা ও থিয়াগো আলমাদা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েন। তাদের মধ্যে পারেদেসকে ১০ ম্যাচ, মোলিনাকে ৭ ম্যাচ এবং আলমাদাকে ১ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। একই ঘটনায় আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফের সদস্য রবার্তো আয়ালাকেও তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
নিষেধাজ্ঞার সময় কমিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরার সুযোগ চেয়ে ফিফার কাছে আবেদন করেছিল আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সংস্থাটির পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়, আন্তর্জাতিক সূচিতে থাকা ‘এ’ শ্রেণির প্রীতি ম্যাচগুলোও যেন নিষেধাজ্ঞা পূরণের ম্যাচ হিসেবে গণনা করা হয়। ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি শেষ পর্যন্ত সেই আবেদন অনুমোদন করেছে।
এর ফলে নিষিদ্ধ খেলোয়াড়দের জন্য শাস্তি পূরণের সুযোগ আগের তুলনায় বেড়েছে। এখন শুধু প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচ নয়, নির্ধারিত আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচেও মাঠের বাইরে থাকার শাস্তি গণনা করা হবে। ফলে আগামী কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিরতিতে আর্জেন্টিনার নিষিদ্ধ খেলোয়াড়েরা তাদের শাস্তির ম্যাচ দ্রুত শেষ করতে পারবেন।
বিশেষ করে লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও নাহুয়েল মোলিনার মতো বেশি ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পাওয়া খেলোয়াড়দের জন্য ফিফার এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের শেষ ভাগ থেকে আগামী বছরের শুরুর দিকে আর্জেন্টিনার আন্তর্জাতিক সূচিতে থাকা বিভিন্ন ম্যাচ তাদের নিষেধাজ্ঞা শেষ করার ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে।
তবে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন মনে করছে, বর্তমান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ এখনো প্রয়োজনের তুলনায় বেশি। তাই শাস্তির পরিমাণ সরাসরি কমানোর জন্য তারা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফিফার পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত হাতে পাওয়ার পর সংস্থাটির আপিল কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হতে পারে।
আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞাকে অতিরিক্ত কঠোর বলে দাবি করা হয়েছে। দেশটির আইনি প্রতিনিধিরাও শাস্তির মাত্রা পুনর্বিবেচনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ফিফার আপিল প্রক্রিয়ায় প্রত্যাশিত ফল না এলে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সালিশি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগও রয়েছে আর্জেন্টিনার।
ফলে আপাতত ফিফার নতুন সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার জন্য স্বস্তির হলেও নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি বাতিল বা কমে যাচ্ছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। বরং প্রীতি ম্যাচকে শাস্তি পূরণের আওতায় আনার ফলে নিষিদ্ধ খেলোয়াড়দের মাঠে ফেরার সময় কিছুটা এগিয়ে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আর্জেন্টিনা এখন পরবর্তী আপিলের মাধ্যমে শাস্তির মেয়াদ আরও কমানোর চেষ্টা চালাবে।



