প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি মাঠে ফেরার পর যেন ছন্দ হারিয়ে ফেলেছে ইন্টার মায়ামি। একের পর এক ম্যাচে পয়েন্ট হারানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা থেকেও বিদায় নিতে হয়েছে দলটিকে। সর্বশেষ চার ম্যাচে মেসিকে নিয়ে মাঠে নেমে কোনো জয় পায়নি মায়ামি। এর মধ্যে তিনটি ম্যাচে হার এবং একটি ম্যাচে ড্র হয়েছে।
সর্বশেষ টরন্টোর বিপক্ষে ২-১ গোলে হারের পর মায়ামির পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। এর আগে ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেছিল তারা। তারও আগে ন্যাশভিলের কাছে হার এবং ক্লাব লিওনের বিপক্ষেও পরাজিত হয় মায়ামি। ফলে টানা চার ম্যাচে জয়হীন থাকায় দলটির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্বকাপের পর কিছুদিন বিশ্রামে ছিলেন মেসি। সেই সময়ে মায়ামি দুটি ম্যাচ খেলেছিল এবং দুটিতেই জয় পেয়েছিল। কিন্তু মেসি ফেরার পর দলের ফলাফলে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। চলতি আগস্টে এখন পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মায়ামি সাতটি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে জয় মাত্র একটি, ড্র দুটি এবং হার চারটি।
একমাত্র জয়টি এসেছে সান লুইসের বিপক্ষে। অন্যদিকে ন্যাশভিলের বিপক্ষে হারের পর পূর্বাঞ্চলীয় সম্মেলনের শীর্ষ দলের সঙ্গে মায়ামির পয়েন্ট ব্যবধানও বেড়েছে। জুলাইয়ের শেষ দিকে ব্যবধান ছিল মাত্র দুই পয়েন্ট; সাম্প্রতিক ব্যর্থতায় সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ পয়েন্টে।
লিগস কাপেও মায়ামির পরিস্থিতি ভালো নয়। ক্লাব লিওন ও মন্তেররের কাছে হেরে প্রতিযোগিতার প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে তারা। ফলে একদিকে ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় পয়েন্ট হারানো, অন্যদিকে কাপের লড়াই থেকে ছিটকে যাওয়া—সব মিলিয়ে মায়ামির জন্য সময়টা কঠিন হয়ে উঠেছে।
ব্যক্তিগতভাবেও মেসির জন্য সময়টি আবেগঘন। বাবার মৃত্যুর পর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষ করে মাঠে ফিরেছিলেন তিনি। ফেরার পর গোলও পেয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা। তবে তার ব্যক্তিগত সাফল্য দলকে কাঙ্ক্ষিত জয় এনে দিতে পারছে না।
এর মধ্যেই ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় কুইন সুলিভানের সঙ্গে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে জড়িয়ে শাস্তির মুখেও পড়েছেন মেসি। ম্যাচের শেষ দিকে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের মাথা ও ঘাড়ের অংশে হাত দেওয়ার ঘটনায় প্রতিযোগিতার শৃঙ্খলা কমিটি তাকে জরিমানা করেছে। তবে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি।
ফলে মেসি মাঠে থাকলেও কেন মায়ামির কাঙ্ক্ষিত ফল আসছে না, তা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। দলের রক্ষণভাগের দুর্বলতা, সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ব্যর্থতার বিষয়গুলোও সামনে আসছে।
মায়ামির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত এই খারাপ সময় কাটিয়ে ওঠা। মেসির মতো তারকা দলে থাকা সত্ত্বেও যদি ধারাবাহিকভাবে পয়েন্ট হারাতে থাকে দলটি, তাহলে মৌসুমের শেষ ভাগে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।



