প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট সিরিজ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার মধ্যেও আশাবাদী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবাল। নির্ধারিত সময়ে সিরিজটি আয়োজন সম্ভব না হলেও তা বাতিল হয়ে যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডই সিরিজটি মাঠে গড়াতে নতুন সময় খুঁজছে বলেও জানিয়েছেন তামিম।
প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ সফরে এসে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে তিনটি একদিনের ম্যাচ ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার কথা ভারতের। বিভিন্ন কারণে পূর্বনির্ধারিত সময়ে সিরিজটি আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। ফলে নতুন করে কবে দুই দল মাঠে নামবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। তবে সিরিজটি পুরোপুরি বাতিলের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি।
তামিম ইকবালের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে এ বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। দুই পক্ষই এমন একটি সময় খুঁজছে, যখন উভয় দলের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির সঙ্গে সমন্বয় করে সিরিজটি আয়োজন করা সম্ভব হবে।
তিনি জানিয়েছেন, দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মনোভাব ইতিবাচক। সিরিজটি আয়োজনের ব্যাপারে কারও অনাগ্রহ থাকলে নতুন সময় খোঁজার আলোচনা এগিয়ে যেত না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই সিরিজ শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়ানোর সম্ভাবনা এখনো রয়েছে।
তামিম বলেন, ক্রিকেট সূচিতে দুই দলই ব্যস্ত থাকায় উপযুক্ত সময় বের করা সহজ হচ্ছে না। বাংলাদেশের সামনে একাধিক সিরিজ রয়েছে, একইভাবে ভারতীয় দলেরও ব্যস্ত আন্তর্জাতিক কর্মসূচি রয়েছে। এ কারণে উভয় পক্ষকে নিজেদের সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন সময় নির্ধারণ করতে হচ্ছে।
তবে ঠিক কবে সিরিজটি অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। নতুন সময় নির্ধারণের বিষয়টি দুই বোর্ডের আলোচনার ওপরই নির্ভর করছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতেও বলা হয়েছে, সিরিজটি পূর্বনির্ধারিত সময়ে হচ্ছে না এবং নতুন সময়সূচি নিয়ে দুই বোর্ডের আলোচনা চলছে।
বিশ্বকাপে না খেলা নিয়েও কথা
ভারত সিরিজের পাশাপাশি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছেন তামিম ইকবাল। তাঁর মতে, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার বিষয়টি আরও বিচক্ষণতার সঙ্গে সামলানো সম্ভব ছিল।
বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানোর পেছনে বিভিন্ন পরিস্থিতি ও আলোচনার বিষয় উঠে এসেছিল। এর মধ্যে ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটের একটি দলে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে তৈরি হওয়া ঘটনাও আলোচনায় আসে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল।
তামিমের মতে, মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেটি নিয়ে দেশের মানুষের হতাশ হওয়াটা স্বাভাবিক। তাঁর দৃষ্টিতে ঘটনাটি এমনভাবে হওয়া উচিত ছিল না। তবে পরবর্তী সময়ে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে আরও কৌশলী ও কার্যকর আলোচনা করা প্রয়োজন ছিল।
বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়ার পর দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছিল, সেটিও উল্লেখ করেছেন তামিম। তাঁর মতে, এমন একটি বড় আসরে খেলার সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাই পরবর্তী আলোচনার ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা যেত।
আলোচনার কিছু তথ্য প্রকাশ্যে আনতে চান না তামিম
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সংশ্লিষ্ট মহলে যে আলোচনা হয়েছিল, সে বিষয়ে তামিমের কাছে আরও কিছু তথ্য রয়েছে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকার কারণে তিনি সেসব বিষয় প্রকাশ্যে আনতে চাননি।
তামিম জানিয়েছেন, আলোচনার টেবিলে এমন কিছু বিষয় উঠে এসেছিল, যেগুলো প্রকাশ করা হলে অনেকেই বিস্মিত হতে পারেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি সম্মান বজায় রাখার কারণে তিনি সেগুলো প্রকাশ করবেন না।
তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, কোনো সংকটের শুরুতেই এমন অবস্থানে চলে যাওয়া ঠিক নয়, যেখান থেকে সমঝোতার সুযোগ থাকে না। বরং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন বিকল্প খোলা রাখা প্রয়োজন।
খেলাকে খেলার জায়গায় রাখার বার্তা
বাংলাদেশ-ভারত সিরিজের অনিশ্চয়তার পেছনে দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। তবে তামিম মনে করেন, খেলাধুলার সঙ্গে অন্যান্য বিষয়কে যতটা সম্ভব আলাদা রাখা উচিত।
তাঁর বক্তব্যের মূল সুর হলো, ক্রিকেটের সম্পর্ক যেন বৃহত্তর পরিস্থিতির কারণে পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড যদি পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সময় বের করতে পারে, তাহলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা সিরিজটি আয়োজনের সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট লড়াই দুই দেশের দর্শকদের কাছেই বিশেষ আগ্রহের বিষয়। দুই দলের মুখোমুখি লড়াই ঘিরে মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি দর্শকদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। ফলে ছয় ম্যাচের এই সিরিজ কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহও বাড়ছে।
বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নতুন সময়সূচি চূড়ান্ত করা। দুই বোর্ডের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকায় সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন তারিখ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি অনিশ্চিতই থাকছে।
তামিম ইকবালের আশাবাদী বক্তব্যে অন্তত এটুকু স্পষ্ট হয়েছে যে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সিরিজটি আয়োজনের ব্যাপারে আগ্রহী। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গেও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। দুই দলের ব্যস্ত সূচির মধ্য থেকে উপযুক্ত সময় বের করতে পারলেই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ আবারও মাঠে ফেরার সুযোগ পাবে।



