প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ১০:৩১ পিএম
রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় দ্বৈরথ এখন আর নিয়মিত দেখা যায় না। একসময় দুই দলের ম্যাচ ঘিরে যে তীব্র উত্তেজনা, দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ তৈরি হতো, তা অনেকটাই সীমিত হয়ে গেছে। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সিরিজও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। এমন পরিস্থিতিতে ক্রিকেটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এই দ্বৈরথকে আরও নিয়মিত মাঠে ফেরাতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা।
আলোচনায় থাকা পরিকল্পনার একটি অংশ হিসেবে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ভারত ও পাকিস্তানকে নিয়ে তিন বা চার দলের সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য এমন আয়োজনে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাকেও যুক্ত করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয় এবং এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অবস্থানও পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি।
২০১৩ সালের পর থেকে ভারত ও পাকিস্তান কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজে মুখোমুখি হয়নি। এরপর দুই দল একে অপরের বিপক্ষে খেলেছে মূলত এশিয়া কাপ এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার বড় প্রতিযোগিতাগুলোতে। বিশ্বকাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়নস ট্রফিসহ বিভিন্ন বহুদেশীয় প্রতিযোগিতায় তাদের লড়াই হয়েছে। দুই দলের ম্যাচে দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ থাকায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা এই জনপ্রিয় দ্বৈরথকে আরও বেশি সংখ্যায় আয়োজনের সুযোগ খুঁজছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মতো দেশের নাম আলোচনায় রয়েছে। এতে দুই দলের রাজনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জটিলতা এড়িয়ে ক্রিকেটীয় আয়োজন করা সম্ভব হতে পারে। পাকিস্তান এ ধরনের উদ্যোগের প্রতি আগ্রহী হলেও ভারত এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অবস্থান জানায়নি।
এদিকে বাংলাদেশকেও সম্ভাব্য এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করার আলোচনা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানকে একই আয়োজনে দেখা গেলে উপমহাদেশের ক্রিকেটে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। একই সঙ্গে তিন দেশের সমর্থকদের মধ্যেও এমন প্রতিযোগিতা ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার সদস্য দেশগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে পূর্ণ সদস্য ও সহযোগী সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। বহুদেশীয় প্রতিযোগিতার নতুন কাঠামো, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের সংখ্যা বাড়ানো এবং ভবিষ্যৎ ক্রিকেট সূচি নিয়ে সেখানে আলোচনা হতে পারে।
তবে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কারণে সরাসরি সিরিজ আয়োজন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণেই নিরপেক্ষ মাঠে একাধিক দেশকে নিয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজনের ধারণাটি সামনে এসেছে। এমন ব্যবস্থায় দুই দল একই প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেও কোনো দলকে অপর দেশের মাটিতে খেলতে যেতে হবে না।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচ আয়োজনেও নিরপেক্ষ ভেন্যুর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে আগের সমঝোতা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু প্রতিযোগিতায় আয়োজক দেশের বাইরে ম্যাচ আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতেও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে একই ধরনের কাঠামো অনুসরণের সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যেও নির্ধারিত সিরিজ নিয়ে পরিবর্তন এসেছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ সফরে ভারতের তিনটি একদিনের ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার কথা থাকলেও সেই সূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে না। পরবর্তী সময়ে ২০২৭ সালের শুরুতে দুই দেশের সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট দ্বৈরথকে আরও নিয়মিত করার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উপমহাদেশের ক্রিকেটে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। আর সেই পরিকল্পনায় বাংলাদেশ যুক্ত হলে তিন দেশের ক্রিকেটীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কোন কাঠামোয় এবং কখন এই আয়োজন হবে, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সম্মতি ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার সিদ্ধান্তের ওপর।



