প্রকাশিত: নভেম্বর ১২, ২০২৫, ০৪:৩৭ পিএম
২০১০ সালে দুই বছরের চুক্তিতে গামিনি ডি সিলভাকে নিয়োগ দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দীর্ঘ ১৬ বছর বাংলাদেশে কাজ করার পর শ্রীলঙ্কান এই কিউরেটরের সঙ্গে সম্পর্ক গুটিয়ে নিয়েছে বিসিবি। তার বিরুদ্ধে ওঠা সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল, তিনি বিসিবির সাবেক প্রভাবশালী পরিচালক মাহবুবুল আনামের সুপারিশ ও আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে এতদিন চাকরি টিকিয়ে রেখেছিলেন।
বিদায় বেলায় দেশের এক গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন গামিনি ডি সিলভা। যেখানে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন বিসিবির সাবেক এই প্রধান কিউরেটর। গামিনি বলেন, ‘একজন মানুষ অযোগ্য কিউরেটরকে কতদিন সাপোর্ট দিতে পারে? সম্ভব না। যারা বলেন মাহবুবের জোরে থেকেছি, তারা ভুল বলেন। কারও আর্শীবাদপুষ্ট হয়ে ১৬ বছর চাকরি করিনি।’
মাহবুবুল আনামের শ্রীলঙ্কা অফিসে কাজ করতেন গামিনির স্ত্রী। গুঞ্জন আছে, তার স্ত্রীর সুবাদে চুক্তি নবায়ন সহজ হয়েছিল। এমন গুঞ্জনের জবাবে গামিনি বলেন, ‘মানুষ তো কত কিই বলে। রংচং দেওয়ার জন্য যোগসূত্র খোঁজে। তারা জানেই না কোনটা সঠিক। এগুলো ছিল মানুষের কল্পনা। কোনো কিছু সঠিক না। মাহবুবের বিরোধিতা করতে গিয়ে আমাকে জড়িয়েছে কিছু মানুষ।’
মিরপুরের স্লো ও লো উইকেট বানিয়ে অনেক সমালোচনার শিকার হয়েছেন গামিনি ডি সিলভা। তবে তিনি দাবি করেছেন, যা কিছু করা হয়েছে, সবই স্বাগতিকদের সুবিধা নেওয়ার জন্য। তিনি বলেন, ‘বিসিবি পরিচালকরা যে নির্দেশনা দিতেন, আমি সেটা অনুসরণ করেছি। আমি নিজে থেকে কিছু করিনি। কারণ এখানে আমার কোনো স্বার্থ নেই। আমাকে এখানে রাখাই হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের চাহিদা পূরণের জন্য। আমি সুস্পষ্ট করে বলতে চাই—আমার পছন্দে কোনো দিন উইকেট তৈরি করিনি।’
২০২১ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো বড় দলকে হারিয়ে বিশ্বকাপে খেলতে যায় বাংলাদেশ। কিন্ত বৈশ্বিক আসরে ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি টাইগাররা। সে সময় অনেকেই বলেছিল, মিরপুরের বাজে উইকেট মিথ্যে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে ক্রিকেটারদের। তবে গামিনি দাবি করেন, বিসিবির চাওয়াতেই এমন উইকেট তৈরি করেছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে গামিনি বলেন, ‘ওখানে আমার কোনো ভূমিকা বা ভুল নেই। বিসিবি ওই সিরিজ দুটি জিততে চেয়েছে। নির্বাচক, ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ, গ্রাউন্ডস কমিটি, টিম ম্যানেজমেন্ট স্লো ও লো উইকেট চেয়েছিল। কারণ ওই সিরিজ জেতায় বাংলাদেশ সরাসরি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়েছিল। বোর্ড থেকে তো আমাকে কিছু বলেনি। তারা বরং ধন্যবাদ দিয়েছে সিরিজ জেতায়।’
গামিনির বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ, দেড় দশকে বাংলাদেশে কোনো নতুন কিউরেটর তিনি তৈরি করতে পারেননি। এই সমালোচনারও জবাবে গামিনি তিনি বলেন, ‘অবশ্যই করেছি। কয়েকজন গ্রাউন্ডসম্যান কিউরেটর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সিলেটের কিউরেটর কবিরকে গড়ে তুলেছি। মামুন নেপালের কিউরেটর, চীনে কাজ করছে রাসেল। আরও তিনজন ছেলে দেখবেন শিগগিরই বড় পরিসরে কাজ করবে।’
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি সয়েল সায়েন্স থেকে নিয়োগ পাওয়া চারজনকেও তিনি প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং অনেককে প্রশিক্ষণের জন্য দুবাইও পাঠিয়েছেন।



