প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। বোর্ডের সঙ্গে আলোচনার পর পাকিস্তান সরকার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে শাহিন আফ্রিদিদের। তবে গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটি না খেলার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে তারা।
পাকিস্তানের এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) পিসিবিকে পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য কোনো সমাধানের পথে এগোনোর আহ্বান জানিয়েছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে পাকিস্তান সরকার নিশ্চিত করেছে যে, দেশটি বিশ্বকাপে অংশ নেবে; তবে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। বাংলাদেশকে ঘিরে আইসিসির একটি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ হিসেবেই এমন অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান—বিবৃতিতে এমনটাই জানানো হয়।
এরপর আইসিসি এক বিবৃতিতে জানায়, পাকিস্তান সরকারের বক্তব্য তারা লক্ষ্য করেছে, যেখানে ২০২৬ সালের আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য জাতীয় দলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইসিসি জানিয়েছে, এ বিষয়ে পিসিবির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের অপেক্ষায় রয়েছে তারা।
আইসিসির ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরের মৌলিক উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনকারী প্রতিটি দল নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সমান শর্তে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে—এটাই প্রত্যাশিত। সততা, প্রতিযোগিতা, ধারাবাহিকতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই আইসিসির টুর্নামেন্ট পরিচালিত হয়; পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত সেই প্রতিযোগিতার চেতনা ও পবিত্রতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে বলে উল্লেখ করা হয়।
বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আরও সতর্ক করে বলেছে, জাতীয় নীতিনির্ধারণে বিভিন্ন দেশের সরকারের ভূমিকাকে আইসিসি সম্মান জানালেও, এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেটের স্বার্থে নয় এবং পাকিস্তানসহ বিশ্বজুড়ে থাকা লাখো ক্রিকেটভক্তের কল্যাণের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আইসিসি আশা প্রকাশ করেছে, পিসিবি নিজ দেশে ক্রিকেটের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি ও সুদূরপ্রসারী প্রভাবগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে, কারণ এ ধরনের সিদ্ধান্ত পুরো ক্রিকেট ইকোসিস্টেমে প্রভাব ফেলতে পারে—যার অংশীদার ও সুবিধাভোগী পিসিবি নিজেই।
সংকট সমাধানে আশাবাদ জানিয়ে আইসিসি আরও বলেছে, তাদের বর্তমান অগ্রাধিকার হলো বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজন ও সম্পন্ন করা। এই দায়িত্ব পিসিবিসহ প্রতিটি সদস্য দেশেরই হওয়া উচিত। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে এমন একটি পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।



