রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নতুন নীতিমালায় বিদেশি ডিজিটাল প্রতিষ্ঠানের জন্য কঠোর শর্ত

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম

নতুন নীতিমালায় বিদেশি ডিজিটাল প্রতিষ্ঠানের জন্য কঠোর শর্ত

প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশে পরিচালিত বিদেশি ডিজিটাল বাণিজ্য ও অনলাইন বিজ্ঞাপন কার্যক্রমকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর আওতায় আনতে নতুন নীতিমালার খসড়া প্রকাশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত নিবন্ধন গ্রহণ ছাড়া কোনো বিদেশি ডিজিটাল প্রতিষ্ঠান দেশে নতুন করে অনলাইন বিজ্ঞাপন প্রচার কিংবা পণ্য ও সেবা বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। একই সঙ্গে দেশের প্রচলিত কর, মূল্য সংযোজন কর এবং অন্যান্য আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করাও বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের দ্রুত সম্প্রসারিত ডিজিটাল বাণিজ্য খাতকে সুশৃঙ্খল, জবাবদিহিমূলক ও রাজস্ববান্ধব করতে এই নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। খসড়াটি ইতোমধ্যে জনমতের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করা হবে। পরে প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

প্রস্তাবিত নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার আগে বিদেশি ডিজিটাল বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে ডিজিটাল ব্যবসায়িক পরিচয় নিবন্ধন গ্রহণ করতে হবে। এই নিবন্ধন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান অনলাইনে নতুন বিজ্ঞাপন প্রচার, পণ্য বিক্রি কিংবা ডিজিটাল সেবা প্রদান করতে পারবে না। নিবন্ধনের পাশাপাশি দেশের প্রচলিত কর ব্যবস্থা ও অন্যান্য আইনও কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর বৈধভাবে আমদানি করা পণ্য ও সেবার বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে। তবে সব ধরনের প্রচারণা দেশের বিদ্যমান আইন, বিধি এবং নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই পরিচালনা করতে হবে। বিভ্রান্তিকর, অতিরঞ্জিত কিংবা প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ থাকবে না।

দেশীয় ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ সহজ করতে বিশেষ নীতিগত সহায়তার কথাও খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে। অনলাইনের মাধ্যমে রপ্তানি বাড়াতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, নিরাপদ অর্থ লেনদেন, আধুনিক গুদাম সুবিধা এবং বীমা ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল উপায়ে অর্জিত রপ্তানি আয়কে প্রচলিত রপ্তানি আয়ের মতোই স্বীকৃতি দিয়ে প্রণোদনার আওতায় আনার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

ভোক্তা অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রয়েছে। কোনো পণ্য বা সেবা বিক্রির আগে ক্রেতাকে মূল্য, গুণগত মান, বিক্রয়োত্তর সেবা, ফেরত নীতি, গ্যারান্টি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। প্রদর্শিত তথ্যের সঙ্গে পণ্যের মিল না থাকলে অথবা নকল বা ত্রুটিপূর্ণ প্রমাণিত হলে বিক্রেতাকে দ্রুত অর্থ ফেরত দিতে হবে এবং পণ্য ফেরত নিতে হবে।

এ ছাড়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নকল, ভেজাল কিংবা প্রতারণামূলক পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইনভিত্তিক জুয়া, বাজি, লটারি এবং আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ পণ্য বা সেবার ডিজিটাল বাণিজ্যের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল বাণিজ্যসংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য অভিযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার পাশাপাশি একটি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নীতিমালাটি কার্যকর হলে দেশের ডিজিটাল বাণিজ্য আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং ভোক্তাবান্ধব হবে। একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!