রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গুলশানে পান্নু-হুমায়ুন-বাহারের রমরমা স্পা ব্যবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম

গুলশানে পান্নু-হুমায়ুন-বাহারের রমরমা স্পা ব্যবসা

ফাইল ছবি

‎ঢাকা'র অভিজাত এলাকা গুলশানে মানবপাচার চক্রের কতিপয় সক্রিয় সদস্যদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা স্পা'র আড়ালে পতিতালয় ব্যবসা স্বীকৃত ব্যবসার মতোই চলছে বলে অভিযোগ করেন বাসিন্দারা।সূত্র বলছে,গুলশান-১ এর ২৪ নং সড়কের বাড়ি নং (৯১/বি)'র দুটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে মোঃ মাহমুদুর রহমান পান্নু ও হুমায়ুন,গুলশান ২ রোড নং- ৯৯, হাউজ নং-৩৩/এ , লিফটের-৬ তলায় কয়েকটি স্পা সেন্টারে বহুদিন ধরে মানবপাচার ও পতিতাবৃত্তির মতো অসামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে চক্রটি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ,তাদের সক্রিয় নিয়ন্ত্রণে গড়ে ওঠা এই ব্যবসা প্রায় স্বীকৃত ব্যবসার মতোই অবাধে চলছে।কয়েকজন বাসিন্দা আরো বলেন,অনেক সময় পুলিশ এদের দমনে মামলা দিলেও কোন ভাবেই তাদের ব্যবসা বন্ধ রাখতে পুরোপুরি ভাবে সক্ষম হচ্ছে না তাঁরা।যে কারণে এদের অপতৎপরতা সহজে নির্মূল হচ্ছে না।তা না হলে গত কয়েক দিন আগে এই প্রতিষ্ঠানে পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রায় অর্ধশত নারী-পুরুষ আটক করে মামলা দিয়ে কোর্টে প্রেরণ করেছিল? সেই প্রতিষ্ঠানের অবৈধ কার্যক্রম কি ভাবে কয়েক দিনের মধ্যেই আবার সচল হয়ে ওঠে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।পুলিশের যোগসাজশে চলুক বা তাদের নজর এড়িয়ে চলুক এখানে দায়িত্ব পালনে ঘাটতি রয়েছে বলেই এসব ব্যবসা স্বীকৃত ব্যবসা পরিচালনার মতো করেই পরিচালিত হচ্ছে।অভিযানের সময় চক্রের অন্যতম সদস্য পান্নু সেই দিন কৌশলে মামলা থেকে বেঁচে গিয়ে হরদমে নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করে চলেছে।বিভিন্ন আইনগত বাধা-বিপত্তি তাদের অপতৎপরতা দমানো যাচ্ছে না।

‎চক্রটি গুলশান ডিপ্লোমেটিক জোন কূটনীতিক পাড়ায় স্পা সেন্টারের অন্তরালে সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে গড়ে ওডা প্রতিষ্ঠানগুলো নানা রকম কৌশল অবলম্বন করে তাদের মনভূত ম্যানেজার রানা,সুমন এর তত্বাবধানে  সেন্টারগুলো পরিচালনা করছেন।এসব ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ উঠেছে যে তরুণ-তরুণী দিয়ে জমজমাট মাদক ব্যবসা সহ ব্ল্যাকমেইল এর মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রমরমা বাণিজ্য হয়ে থাকে। ভয়ংকর অপরাধমূলোক কর্মকাণ্ড এখন এসব ব্যবসায়ীদের আয়ের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে । আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবক্ষয়ের কারণে অনেকটা প্রকাশ্যেই নীতিহীন ঘৃণীত জিনা ব্যভিচার আর মাদকতায় সয়লাব করে দিচ্ছে। প্রতিনিয়ত বাহারের এখান থেকে মাদক সাপ্লাই হয় । কি ভাবে স্থানীয় থানা পুলিশের নাকের ডগার উপরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে তা সকলের বোধগম্য নয়।

‎তবুও এক শ্রেণীর অর্থলোভী দালালদের নাম হলো,, মালিক–বাহার , ম্যানেজার রানা, সুমন ,নারীদেরকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ফিল্মি স্টাইলে ব্ল্যাকমেলই করে দেহ ব্যবসা করাতে বাধ্য করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।,, মালিক — বাহার , ম্যানেজার রানা, সুমন, ওদের টার্গেট বৃত্তবান প্রভাবশালী সন্তানরা। অল্প বয়সী নারী দিয়ে ফাঁদ পেতে মওকা হাসিল করছে ।

‎অনুসন্ধানে জানা যায়, গুলশান ২ রোড নং- ৯৯ হাউস নাম্বার –৩৩/এ ,অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়ে দেহ ব্যবসা চালিয়ে আসছে মালিক -বাহার , ম্যানেজার রানা, সুমন,নামের অপরাধ জগতের অন্যতম মাফিয়া ডন নামে পরিচিত এবং বিএনপি’র একজন একনিষ্ঠ সহচর  বলে তথ্য সূত্রে জানা যায়। এছাড়াও চক্রটি'র একজন সদস্য নিজেকে যুগান্তরের সাংবাদিক পরিচয় দেন তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা গিয়েছে তার কাছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কোন কার্ড  তার কাছে নেই।জানা যায় বাহারের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা স্পা সেন্টারটি একটা ভূয়া ট্রেড লাইসেন্সের উপর ভিত্তি করে আবাসিক বাড়ি ভাড়া নিয়ে বিউটি পার্লার ও হেয়ার কাটিং এর আড়ালে দেদারসে মাদক বিক্রি ও দেহপসারিনির পতিতা বৃত্তির যৌন ধান্ধার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পূর্বের তুলনায় এ বছর গুলশানে বেঙের ছাতার মতো গর্জে উঠেছে পতিতা বাণিজ্যের বহু ফ্ল্যাট।

‎স্বনামধন্য ব্যক্তিদের বসবাস করা এলাকা এখন পতিতাপল্লীতে পরিণত হতে চলেছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর গুলশানে স্পা ব্যবসায়ীদের অপ্রতিরোধ্য দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে।

‎এধরনের অবৈধ স্পা প্রতিষ্ঠানে জড়িয়ে পড়ছে স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী,তরুণ তরুণী। এই অপরাধমূলক ব্যবসা ধরে রাখতে কেউ নিজেকে পরিচয় দিচ্ছেন ডিআইজির চাচাতো ভাই, ওসির খালাতো ভাই, কেউ পুলিশ কর্মকর্তা'র বন্ধু, সাংবাদিকের বন্ধু, এমনকি স্থানীয় পাতি নেতা প্রভাবশালীদের নাম উঠেছে। দীর্ঘ অনুসন্ধানে দেখা যায়, তাদের অপরাধের কার্যক্রম ভিন্ন রকম। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান বাহিরে তালা দিয়ে ভিতরে চলছে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে এ যেন কানামাছি খেলা। ডিজিটাল কায়দাকে কাজে লাগিয়ে নামিদামি ব্র্যান্ডের সিসি ক্যামেরাও লাগিয়েছেন প্রতিষ্ঠানগুলোতো। 

এ বিষয়ে গুলশান থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার এখন পর্যন্ত কোন মতামত নেওয়া হয়নি, পরবর্তী সংখ্যায় আমরা গুলশান থানার ওসির বক্তব্য  সহ স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগের আরও বিস্তারিত তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরব।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!