প্রকাশিত: মে ১০, ২০২৬, ০৮:১৭ এএম
ঢাকা'র অভিজাত পাড়া গুলশান-বনানী যেখানে আভিজাত্যের আড়ালে জেঁকে বসেছে এক অন্ধকার জগতের অপ্রতিরোধ্য অবৈধ ব্যবসা।স্থানীয়দের অভিযোগ,এলাকাগুলোতে সামাজিক নিরাপত্তার বলয় ভেঙে অত্যন্ত ভয়াবহ ভাবে গড়ে ওঠা স্পা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন কার্যত খোলামেলা স্বীকৃত যৌনপল্লীতে পরিণত হয়েছে।বডি ম্যাসাজ ‘স্পা সেন্টার’ কিংবা ‘থেরাপি সেন্টার’-এর নাম ব্যবহার করে ভেতরে পরিচালিত হচ্ছে রমরমা দেহব্যবসা।
এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা যায়,প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদক কারবার এবং উঠতি বয়সের নারী দিয়ে ভয়ংকর ব্ল্যাকমেইলিংয়ের ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনা হয়ে থাকে ।নানা কৌশলে পরিচালিত স্পা সেন্টারগুলোতে নারীসঙ্গ অথবা মাদক সেবন- তাও আবার নিরাপদে! সবকিছুই মিলবে একই ছাদের নিচে। বিভিন্ন বয়সি পছন্দমাফিক নারীসঙ্গের পাশাপাশি ইয়াবা,হেরোইন, দেশি-বিদেশি মদ,আইস, সিসাসহ সব ধরনের মাদক নাকি হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে।
সার্বক্ষণিক এক ছাদের নিচে সহজে মেলা সব ধরনের ‘নিষিদ্ধ’ আনন্দ সেবার সুযোগ পেয়ে খদ্দের এর আনাগোনা আগের চেয়ে আরো কয়েকগুণ বেড়েছে।তাদের চাহিদা অনুযায়ী নানা বয়সের নারীর সঙ্গ থেকে শুরু করে সব ধরনের মাদক-সবই মিলছে হরহামেশা এসব স্পা সেন্টারে।সংবাদ সূত্র বলছে ইয়াবা, হেরোইন, বিদেশি মদ থেকে শুরু করে ভয়ংকর মাদক আইস ও সিসার ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন থাকে এসব আস্তানাগুলো।
সিটি কর্পোরেশন থেকে থেরাপি সেন্টারের লাইসেন্স নিলেও বাস্তবে সেখানে চলছে অনৈতিক কর্মকাণ্ড। উঠতি বয়সের বিত্তবান সন্তান থেকে শুরু করে প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তিই এসব সেন্টারের আকৃষ্টকরণ ফাদে পড়ে নিয়মিত খদ্দের হিসেবে অবৈধ মনোবাঞ্ছনা পূরণ করে থাকে।আর এমন নিষিদ্ধ সব সেবার ঝুড়ি নিয়ে গুলশান-১ এর ২৪ নং সড়কের বাড়ি নং (৯১/বি)'রতন পুর ক্যাসলে দুটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে মোঃ মাহমুদুর রহমান পান্নু ও হুমায়ুন এর নারী ব্যবসা,গুলশান-২ এর ৯৯ নং সড়কের ৩৩/এ নম্বর হাউজে বাহার উদ্দিন বাহারের অনৈতিক কাজের ব্যবসা,গুলশান-২ এর রোড ৪৫, হাউজ- নং ৩৩ হোটেল এইচ এবং ধানসিঁড়ি রেষ্টুরেন্ট এর চতুর্থ তলায় পতিতা জগতের অত্যন্ত পুরাতন নারী সমাজ্ঞী রত্না আক্তারের পরিচালনায় "অধরা থাই স্পা" বা "বিউটি থাই স্পা'র ব্যানারে দীর্ঘদিন ধরে চলছে অবৈধ নারী সানিদ্যের অফুরন্ত আখড়াখানা।বনানীর ২৭ নম্বর কবরস্থান রোডে শহীদ এর নারী সেবার খুপরি খানা,বনানীর আউয়াল টাওয়ারে একই সেবার উদ্দেশ্য নিয়ে গড়ে উঠেছে বাবুল এর অবৈধ নারী ব্যবসার আখড়াখানা।
জানা যায়,প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকগণ দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই নারী দিয়ে তাদের পতিতা ব্যবসা পরিচালনা করছেন।এক সূত্র বলছে,এতো দিন এরা ক্ষুদ্র পরিসরে তাদের ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের ব্যবসা চাঙ্গা রাখতে অনেকেই ফ্লোর বাড়িয়ে ব্যবসা আরো প্রসারিত করেছেন।ইতিমধ্যেই তারা নাকি নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনার সুবিধা নিতে তারা প্রভাবশালী লোকজনের ছত্রছায়ায় তাদের নারী ব্যবসা পরিচালনার দৌড়ঝাঁপ শুরু করছেন।
নানা কৌশলে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রিত স্পা সেন্টারের আড়ালে এভাবেই চলছে অপ্রতিরোধ্য দেহব্যবসা ও মাদক বাণিজ্যের মতো জমকালো পতিতা কারবার। গুলশানের-বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় যেভাবে এদের স্পা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে নিষিদ্ধ নারী ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে তাতে মনে হয় অসামাজিক কার্যকলাপ বৈধতার স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে। মূল কথা হচ্ছে, আইনবহির্ভূত এসব কর্মকাণ্ড নির্মূল করা যাদের গুরু দায়িত্ব তারা কি? চান এসব ব্যবসা নির্মূল হোক।যদি চান তাহলে তাদের নাকের ডগায় এদের মতো লোক দীর্ঘদিন ধরে এক জায়গায় এমন ব্যবসা কিভাবে পরিচালনা করছেন।হয়তো যাদের উপর নির্মূল দায় বর্তায় তারাই চাননা এসব ব্যবসা নির্মূল হোক।যার ফলে এদের মতো অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করা ব্যক্তিরা নির্ভয়ে এমন অবাধ ব্যবসা পরিচালনার নিরাপদ সুযোগ পাচ্ছেন।
বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে এসব নিষিদ্ধ কার্যক্রম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে প্রসাশন মাঝেমধ্যে লোক দেখানো ধরপাকড় করে তাদের দায়সারা দায়িত্ব পরিচালনা করেন বলে পুলিশের নিস্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে গত কয়েক মাসে অবৈধ এই কারবার বেড়েছে কয়েক গুণ এমনটাই জানান স্থানীয়রা। উপরোক্ত বিষয় সম্পর্কে জানতে গুলশান থানার ওসির মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে ও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তিনি ফোন কল কেটে দিয়েছেন তাই এ বিষয়ে তার কোন সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



