প্রকাশিত: মার্চ ২৮, ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
আসন্ন মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা ঘিরে নকল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরীক্ষা সম্পূর্ণ নকলমুক্ত ও প্রশ্নফাঁসমুক্ত করতে এবার কঠোর নজরদারির ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনো কেন্দ্রে নকলের ঘটনা প্রমাণিত হলে শুধু সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী নয়, দায়িত্বে থাকা শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।
এবার খাতায় অনুকম্পামূলক নম্বর দেওয়ার সুযোগ থাকছে না বলেও জানান তিনি। শিক্ষার্থীরা যা লিখবে, তার ভিত্তিতেই নম্বর পাবে। মন্ত্রী বলেন, প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে দয়া-দাক্ষিণ্যের সংস্কৃতি বন্ধ করা জরুরি। অযোগ্য কাউকে পাশ করিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ রাখা হবে না।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারির অংশ হিসেবে নজরদারি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্র পর্যবেক্ষণে থাকবে বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা। ধাপে ধাপে সব কেন্দ্রেই এ ধরনের ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনে আকাশপথে তদারকিও চালানো হতে পারে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশজুড়ে নকল প্রতিরোধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করা হবে। বিশেষ করে দুর্গম, চরাঞ্চল, উপকূলীয় ও পাহাড়ি অঞ্চলের কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নজরদারি থাকবে। খাতা মূল্যায়নেও কোনো ধরনের অযৌক্তিক ছাড় দেওয়া হবে না।
ইতোমধ্যে সব শিক্ষা বোর্ডের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা চাওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্রে উন্নত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে সার্বক্ষণিক নজর রাখা হবে। কোনো কেন্দ্র থেকে অস্বাভাবিক কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ডিজিটাল প্রতারণা ঠেকাতে মুদ্রণ থেকে বিতরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর আরোপ করা হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ এবং পুরো কার্যক্রম নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা।



