প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম
দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধাপে ধাপে সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, শিক্ষাখাতে টেকসই জ্বালানি ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদার একটি বড় অংশ সৌরশক্তি থেকে পূরণ করতে পারে।
বুধবার ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সোলার প্ল্যান্ট স্থাপন সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর শেষে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষা খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ব্যয় সংকোচন বা অবহেলা করবে না। বরং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হবে। তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে মোট দুই হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বড় ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদ্যুৎ স্বনির্ভর করতে পারলে একদিকে যেমন খরচ কমবে, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের পথও প্রসারিত হবে।
শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কারের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, সরকার পরীক্ষা পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনতে কাজ করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে দশ বছরের মধ্যে এসএসসি এবং বারো বছরের মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, পরীক্ষার সময় কমিয়ে আনা এবং সিলেবাস কার্যকরভাবে সম্পন্ন করার বিষয় নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে কীভাবে সময় অপচয় না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাঠ্যক্রম শেষ করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দেশের মানবসম্পদকে দক্ষ ও উৎপাদনশীল করে গড়ে তুলতে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও বাস্তবমুখী পাঠ্যক্রম প্রবর্তনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ চাহিদা অনুযায়ী প্রস্তুত করা হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘমেয়াদে সরকারের বিদ্যুৎ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষা ও জ্বালানি খাতের সমন্বিত এই উদ্যোগ দেশের টেকসই উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তারা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে যদি নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের আওতায় আনা যায়, তাহলে তা অর্থনৈতিকভাবে যেমন লাভজনক হবে, তেমনি পরিবেশ সুরক্ষাতেও সহায়ক হবে।
সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আওতায় আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।



