রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পরীক্ষাব্যবস্থা আরও শৃঙ্খলিত করতে নতুন পরিকল্পনা শিক্ষামন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম

পরীক্ষাব্যবস্থা আরও শৃঙ্খলিত করতে নতুন পরিকল্পনা শিক্ষামন্ত্রীর

ফাইল ছবি

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের সেশনজট ও সময়ক্ষেপণ কমাতে নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীরা যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করতে পারে, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।

বুধবার রাজধানীর ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম বড় সমস্যা হচ্ছে সেশনজট ও সময়মতো পরীক্ষা সম্পন্ন না হওয়া। এর ফলে অনেক শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি বছর শিক্ষাজীবনে আটকে থাকে। সরকার এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে চায় এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে আরও গতিশীল ও সময়োপযোগী করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, সরকার চায় একজন শিক্ষার্থী যেন দশ বছরের বিদ্যালয় শিক্ষা শেষে মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বারো বছরের শিক্ষা শেষে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে পারে। এ জন্য পাঠ্যসূচি, পরীক্ষা পদ্ধতি ও শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে কীভাবে পাঠ্যসূচি সম্পন্ন করা যায়, সেটি নিয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সময় নষ্ট কমিয়ে পরীক্ষাগুলো যথাসময়ে আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, পরীক্ষাকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিলে ভালো ফল করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পরীক্ষা আগের তুলনায় অনেক বেশি সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এই ধারা বজায় রাখতে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।

শিক্ষাবিদদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় সেশনজট একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রশাসনিক জটিলতা এবং পরীক্ষার সময়সূচিতে পরিবর্তনের কারণে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ে শিক্ষা সম্পন্ন করতে পারেনি। এতে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে প্রবেশের ক্ষেত্রেও বিলম্ব হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা নেওয়া গেলে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমবে এবং শিক্ষা কার্যক্রমে গতি ফিরবে। পাশাপাশি অভিভাবকদের আর্থিক চাপও কিছুটা কমে আসবে। কারণ দীর্ঘ সময় শিক্ষাজীবন চালিয়ে যেতে গিয়ে অনেক পরিবারকে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয়।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও বাস্তবমুখী করতে হবে। শুধু মুখস্থনির্ভর শিক্ষা নয়, বরং সৃজনশীলতা ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পাঠ্যসূচিতে পরিবর্তন এনে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক জ্ঞান বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

তিনি জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিগগিরই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠকে বসবে। সেখানে পরীক্ষার সময়সূচি, পাঠ্যসূচি সম্পন্ন করা, সেশনজট কমানো এবং শিক্ষা কার্যক্রম আরও কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা হবে। আলোচনার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষকরা বলেন, সময়মতো পরীক্ষা নেওয়া এবং সেশনজট কমানো গেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়বে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক পরিবেশও আরও উন্নত হবে।

অভিভাবকরাও সরকারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, নির্ধারিত সময়ে শিক্ষা শেষ করতে পারলে শিক্ষার্থীরা দ্রুত উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ পাবে।

শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, শৃঙ্খলিত ও সময়োপযোগী করার এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষা খাতে বড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন অপেক্ষা সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার দিকে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!