প্রকাশিত: মে ১৪, ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম
২০২৭ সালের মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষা ডিসেম্বরের শেষ দিন থেকে শুরু হতে পারে। প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ৩১ ডিসেম্বর লিখিত পরীক্ষা শুরু করে আগামী বছরের ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পূর্ণ কার্যক্রম শেষ করার চিন্তাভাবনা চলছে। যদিও এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে জানা গেছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মতামত বিশ্লেষণ করে এই নতুন সময়সূচির খসড়া তৈরি করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় একদিকে ডিসেম্বর মাসে পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায়, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের জানুয়ারিতে পরীক্ষা নেওয়ার দাবিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। এই দুই অবস্থানের সমন্বয় করতেই ডিসেম্বরের শেষ দিনে পরীক্ষা শুরু করার প্রস্তাব সামনে এসেছে।
প্রস্তাবিত সময়সূচি অনুযায়ী, পুরো জানুয়ারি মাসজুড়ে লিখিত পরীক্ষা চলবে। এরপর ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা হলো সম্ভাব্য রোজার ছুটি শুরুর আগেই সম্পূর্ণ পরীক্ষা কার্যক্রম শেষ করা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে রোজার ছুটি শুরু হতে পারে। সে কারণে তার আগেই সব পরীক্ষা শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত তত্ত্বীয় বা লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। এরপর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। পুরো পরীক্ষার জন্য প্রায় ৩৮ দিনের একটি রুটিন তৈরির পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে দেশের সব শিক্ষাবোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে। ২০২৭ সাল থেকেই সারা দেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্র চালুর বিষয়ে নীতিগত আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের মান ও মূল্যায়নে সমতা আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই দেশের পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা চলছে। কখনো অতিরিক্ত গরম, কখনো বন্যা, আবার কখনো ধর্মীয় উৎসবের কারণে পরীক্ষার সময়সূচিতে জটিলতা তৈরি হয়। এসব সমস্যা এড়াতে ধীরে ধীরে ডিসেম্বরের মধ্যেই মাধ্যমিক পরীক্ষা নেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে শিক্ষা প্রশাসন।
বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষামন্ত্রী ইতোমধ্যেই কয়েক দফায় ডিসেম্বর মাসে মাধ্যমিক পরীক্ষা আয়োজনের কথা বলেছেন। সেই নির্দেশনার আলোকে নতুন সময়সূচি তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে। তবে শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রস্তুতি ও অভিভাবকদের উদ্বেগের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ফলে হঠাৎ করে পরীক্ষা অনেকটা এগিয়ে না এনে ডিসেম্বরের শেষ দিনকে সূচনার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সম্ভাব্য নতুন সময়সূচি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, পুরো জানুয়ারি মাস হাতে থাকায় প্রস্তুতির জন্য তারা পর্যাপ্ত সময় পাবেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, বছরের শেষ দিকে পরীক্ষা শুরু হলে মানসিক চাপ কিছুটা বেড়ে যেতে পারে।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের পাশাপাশি পাঠ্যসূচি সম্পন্ন করা, শিক্ষকদের প্রস্তুতি এবং বিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু সময় এগিয়ে আনলেই হবে না, পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে সেই অনুযায়ী সাজাতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখনো বিষয়টি পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত সময়সূচি ও সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হতে পারে। এরপর পরীক্ষার্থীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ রুটিন প্রকাশ করা হবে।
দেশের লাখো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের নজর এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী ঘোষণার দিকে। কারণ নতুন সময়সূচি শুধু পরীক্ষার তারিখই বদলাবে না, বদলে দিতে পারে পুরো শিক্ষাবর্ষের পরিকল্পনাও।



