রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মন খুলে গান গাওয়া যায়, নম্বর দেওয়া যায় না: শিক্ষামন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২৬, ০২:১৬ পিএম

মন খুলে গান গাওয়া যায়, নম্বর দেওয়া যায় না: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার কমে যাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় যে নম্বর পাওয়ার যোগ্য, তাদের সেই নম্বরই দেওয়া হয়েছে। ফলাফল নিয়ে ‘বিপর্যয়’ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘মন খুলে গান গাওয়া যায়, নম্বর দেওয়া যায় না।

সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, এবার পরীক্ষা আয়োজন ও ফল প্রকাশে কিছুটা দেরি হলেও আগামী বছর থেকে পরীক্ষার সময় আরও এগিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এবারের ফলাফলে পাসের হার কমে যাওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় যে নম্বর পেয়েছে, সেটিই ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে। নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় বা বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়নি বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

তবে ফলাফল নিয়ে কোনো শিক্ষার্থীর আপত্তি থাকলে তাকে খাতা পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে এবার আগের ব্যবস্থার পরিবর্তে পুরো উত্তরপত্র পুনরায় পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, আগের নিয়মে পুনঃনিরীক্ষণের সময় মূলত হিসাব-সংক্রান্ত বিষয় যাচাই করা হতো। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় আবেদন করা শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ খাতা পুনরায় দেখা হবে। নম্বর প্রদানে কোনো ভুল হয়েছে কি না, কোনো প্রশ্নের প্রাপ্য নম্বর দেওয়া হয়নি কি না—এসব বিষয়ও যাচাই করা হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ভুল সংশোধন করে ফলাফলে পরিবর্তন আনা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, খাতা পুনঃনিরীক্ষণের পুরো প্রক্রিয়া একটি নির্ধারিত কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। ফলে কোনো শিক্ষার্থী মনে করলে তার প্রাপ্য নম্বর দেওয়া হয়নি, সে নিয়ম মেনে আবেদন করতে পারবে।

এ ছাড়া যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি, সেসব প্রতিষ্ঠান নিয়েও কাজ করার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। অতীতে নকল ও ফলাফলের দুর্বলতার কারণে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আরও বেশি ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি করা হয়েছিল। এবারও ফলাফলের দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চলতি বছরের ফলাফলে সামগ্রিক পাসের হার কমে যাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের ফলাফল, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং শূন্য পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পুনঃনিরীক্ষণের মাধ্যমে কোনো মূল্যায়নগত ভুল ধরা পড়লে তা সংশোধনের সুযোগ এবার আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত রাখা হয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!