প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৬, ১১:৩৪ পিএম
ডিজিটাল বিশ্বের দ্রুত বিকাশমান বাস্তবতায় তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীলতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও কৌশলগত চিন্তাশক্তিকে বিকশিত করতে রাজধানীর অন্যতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে উৎসবমুখর পরিবেশে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হলো “প্রেসিডেন্সি ই-স্পোর্টস ম্যানিয়া সিজন–১”। দিনব্যাপী এই আয়োজন ঘিরে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে বিরাজ করে প্রাণচাঞ্চল্য, উচ্ছ্বাস ও প্রযুক্তিনির্ভর বিনোদনের এক ব্যতিক্রমধর্মী আবহ।
সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলা এ আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ই-স্পোর্টস প্রতিযোগিতার পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত “গোট প্রো সিরিজ ফাইনাল শোডাউন”, যা শিক্ষার্থী ও গেমপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে “প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি ই-স্পোর্টস অ্যান্ড ইনোভেশন ক্লাব”। সেগমেন্ট পার্টনার হিসেবে ছিল “গোট ই-স্পোর্টস” এবং ম্যানেজমেন্ট পার্টনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে “হাইটেবিল”।
আয়োজন সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রযুক্তিনির্ভর এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ, দলগত নেতৃত্ব, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং মানসিক দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়েই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
পুরো আয়োজন সফলভাবে বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ক্লাব মডারেটর মো. আনিছুর রহমান। ইভেন্ট ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কো-মডারেটর ফারজানুল ইসলাম হিমেল।
এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও আয়োজক দলের নিরলস পরিশ্রমে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন জনপ্রিয় ডিজিটাল গেমভিত্তিক প্রতিযোগিতা।
শিক্ষার্থীরা অংশ নেন “পাবজি”, “ফ্রি ফায়ার”, “মোবাইল লেজেন্ডস: ব্যাং ব্যাং”, “অনার অব কিংস”, “ই-ফুটবল”, “ফিফা এফসি” এবং “লুডু” প্রতিযোগিতায়। প্রতিটি খেলায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দেখা যায় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, কৌশলগত পরিকল্পনা ও অসাধারণ দলগত সমন্বয়।
বিশেষ করে “গোট প্রো সিরিজ ফাইনাল শোডাউন” ছিল দর্শকদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব।
সেখানে পুরুষ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয় “সিএমএফ ই-স্পোর্টস” এবং রানারআপ হয় “নো ওয়ান এসডিএস”। অন্যদিকে নারী বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে “দ্য আপার মুনস” এবং রানারআপ হয় “৩৩২ এমএস” দল।
প্রতিযোগিতা শেষে এক বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ী ও রানারআপ দলগুলোর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদপত্র ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এসময় করতালি, উচ্ছ্বাস ও উদযাপনে মুখর হয়ে ওঠে পুরো অডিটোরিয়াম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. আনওয়ারুল কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইলেকট্রনিক স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. মুনিরুল ইসলাম, টেনসেন্ট গেমস-এর বাংলাদেশ প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইমরান হোসাইন এবং ই-স্পোর্টস ব্যক্তিত্ব নওমান আল রাফিদ (দান্তে)।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. সাকির হোসাইন, স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ডিন প্রফেসর ড. শহিদুল ইসলাম খান, স্কুল অব বিজনেস-এর ডিন প্রফেসর আবুল কালাম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান, অ্যাডমিশন অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর ও বিভাগীয় প্রধান জাহিদ হাসানসহ বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী।
বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে ই-স্পোর্টস শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি একটি সম্ভাবনাময় বৈশ্বিক শিল্পখাত।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ই-স্পোর্টস এখন বহু বিলিয়ন ডলারের শিল্পে পরিণত হয়েছে, যেখানে তরুণরা নিজেদের দক্ষতা ও মেধা দিয়ে নতুন কর্মসংস্থান এবং পেশাগত পরিচয়ের সুযোগ তৈরি করছে। বাংলাদেশেও এই খাত দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক এমন আয়োজন তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের মেধা, সফট স্কিল, নেতৃত্বগুণ, মানসিক সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিকাশে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, একদিন বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ই-স্পোর্টস অঙ্গনেও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও তরুণদের সৃজনশীল শক্তিকে একসূত্রে গাঁথা এই আয়োজন নতুন প্রজন্মের জন্য যেমন অনুপ্রেরণার বার্তা বহন করেছে, তেমনি দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তিনির্ভর সহশিক্ষা কার্যক্রমের নতুন দিগন্তও উন্মোচন করেছে।



