প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে সরকার। শিশুদের সৃজনশীল বিকাশ, মানসিক উৎকর্ষ এবং বহুমাত্রিক প্রতিভা গড়ে তুলতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে যুক্ত হতে যাচ্ছে সংগীত, নাট্যকলা, নৃত্যকলা এবং চারু ও কারুকলা বিষয়। শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও প্রাণবন্ত ও বাস্তবমুখী করতে নেওয়া এই উদ্যোগকে নতুন প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার (১০ জুন) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের কেবল পাঠ্যবই নির্ভর শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের মননশীলতা, সৃজনশীলতা এবং সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্ব দিতেই নতুন এই পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ সাল থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’ নামে একটি নতুন পাঠ্যবই চালু করা হবে। এতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের মাধ্যমে সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা এবং চারু ও কারুকলার প্রাথমিক ধারণা শিক্ষার্থীদের শেখানো হবে। পরবর্তীতে ২০২৮ সাল থেকে এই বিষয়গুলোকে নতুন শিক্ষাক্রমের আওতায় পূর্ণাঙ্গভাবে প্রাথমিক শিক্ষার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় সৃজনশীল বিষয়গুলোর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হলেও এবার প্রথমবারের মতো প্রাথমিক স্তরে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে শিশুদের মানসিক বিকাশের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস, যোগাযোগ দক্ষতা এবং দলগত কাজের সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমান সরকারের শিক্ষা ভাবনার অন্যতম লক্ষ্য হলো শিশুদের এমনভাবে গড়ে তোলা, যাতে তারা ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাস্তবতায় দক্ষ ও আত্মনির্ভর নাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। শুধুমাত্র পাঠ্যজ্ঞান নয়, শিল্প, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষাও একজন শিক্ষার্থীর সার্বিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নতুন বিষয় পড়ানোর জন্য বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষিত শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হবে। আগামী কয়েক বছরে এই খাতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংগীত, নাট্যকলা, চারুকলা ও নৃত্যকলায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী তরুণদের জন্য এটি নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের শিক্ষক হিসেবে গড়ে তুলতে পাঠ্যক্রমে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও শিক্ষকতা-সংক্রান্ত প্রস্তুতি অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশে শিল্প ও সংস্কৃতিভিত্তিক শিক্ষা অত্যন্ত কার্যকর। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠ্যজ্ঞানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগও পাবে। ফলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



