রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রাথমিক ফুটবলে ২২ লাখ শিক্ষার্থী, আগামী লক্ষ্য ৫০ লাখ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬, ০৭:২১ পিএম

প্রাথমিক ফুটবলে ২২ লাখ শিক্ষার্থী, আগামী লক্ষ্য ৫০ লাখ

ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, চলতি বছরের প্রাথমিক স্বর্ণকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় সারা দেশের প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে, যা দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। ভবিষ্যতে এই অংশগ্রহণের সংখ্যা বাড়িয়ে অন্তত ৫০ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন প্রাথমিক স্বর্ণকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মাহদী আমিন জানান, আগামী ২০ জুন জাতীয় সেনা স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও দলগত চেতনা বিকাশের জন্য খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত ব্যাপক ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

মাহদী আমিন জানান, গত এপ্রিল মাসে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় দেশের ৬৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। ছেলে ও মেয়ে মিলিয়ে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ২২ লাখেরও বেশি। গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায় অতিক্রম করে সেরা দলগুলো জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তিনি গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিশুদের খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরতে হবে। ছোটবেলা থেকেই স্বীকৃতি ও উৎসাহ পেলে তারা ভবিষ্যতে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে এবং দেশকে এগিয়ে নেওয়ার শক্তিতে পরিণত হবে।

উপদেষ্টা আরও জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক স্তরের চতুর্থ শ্রেণিতে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিভিত্তিক দুটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসিক, সামাজিক ও নৈতিক বিকাশ আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া মাধ্যমিক স্তরে আনন্দময় শিক্ষা, কারিগরি জ্ঞান এবং বাস্তবমুখী শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে নতুন কিছু বিষয় চালুর পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষা নয়, বাস্তব জীবনের দক্ষতাও অর্জন করতে পারবে।

মাহদী আমিন বলেন, উদ্ভাবনী চিন্তা ও সৃজনশীল উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে দেশব্যাপী বিভিন্ন প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা ভাবনা নিয়ে বৃহৎ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ, মানবিক ও আত্মবিশ্বাসী নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, শহর ও গ্রামের শিক্ষার বৈষম্য কমিয়ে একটি সমতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এমন শিক্ষা কাঠামো প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা এবং দেশপ্রেমেও সমৃদ্ধ হবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার সমন্বিত বিকাশের মাধ্যমে দেশের নতুন প্রজন্ম আগামীর বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!