প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা, মানোন্নয়ন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, আগামী ২০২৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ২০২৮ সাল থেকে নতুনভাবে শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা সময়োপযোগী ও কার্যকর শিক্ষা লাভ করতে পারে।
বুধবার রাজধানীতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব তথ্য জানান। সভায় মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রীয় সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। বিশেষ করে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন, প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের মতো বিষয়গুলো শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এসব অনিয়ম প্রতিরোধে সরকার এখন আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
তিনি জানান, পরীক্ষায় নকলের ধরন আগের তুলনায় পরিবর্তিত হয়েছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অসাধু চক্রও নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করছে। ফলে শুধু পরীক্ষার্থী নয়, কোনো প্রতিষ্ঠানে নকলের ঘটনা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানকেও আইনের আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আরও সতর্ক ও জবাবদিহির মধ্যে আনা হবে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। প্রশ্নফাঁস শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রতি চরম অবিচার সৃষ্টি করে। তাই এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় বিদ্যমান আইন সংশোধনের কাজ চলছে। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে শুধু মূল অপরাধী নয়, বরং সহযোগী ও পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। এতে পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধ দমনে নতুন গতি আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত এক দশকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করার জন্য বিভিন্নভাবে অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার গুণগত মান ও প্রশাসনিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই অবস্থা থেকে শিক্ষা খাতকে বের করে এনে একটি আধুনিক, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে।
নতুন শিক্ষাক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৮ সাল থেকে যে পরিবর্তন আনা হবে, তা হবে বাস্তবমুখী, যুগোপযোগী এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, দক্ষতা এবং কর্মমুখী সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে আরও সমন্বিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সভায় শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২২ সালের পর অবসর গ্রহণ করেও যারা এখন পর্যন্ত অবসরভাতা পাননি, তাদের জন্য সুখবর রয়েছে। আগামী জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে বকেয়া অবসরভাতা প্রদান কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ হাজারো শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মচারী উপকৃত হবেন।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিন্যাস, শিক্ষাক্রম সংস্কার, প্রশ্নফাঁস ও নকলবিরোধী কঠোর অবস্থান এবং অবসরভাতা চালুর উদ্যোগ দেশের শিক্ষা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারের এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



