প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম
দায়িত্ব গ্রহণের আগে নানা ধরনের পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তব দায়িত্ব পালনের সময় অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করা সম্ভব হয় না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, প্রশাসনিক বাস্তবতা, নীতিগত সীমাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জের কারণে অনেক পরিকল্পনাই বাস্তবায়নের পর্যায়ে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে।
সম্প্রতি একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রশিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনার একপর্যায়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের দায়িত্ব পালনকালীন অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, দায়িত্ব গ্রহণের আগে পরিবর্তনের বিষয়ে তার অনেক পরিকল্পনা ছিল। তবে দায়িত্বে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করেন, বাস্তব পরিস্থিতি কল্পনার চেয়ে অনেক বেশি জটিল।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দায়িত্বশীল পদে থাকলে শুধু ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা পরিকল্পনা দিয়ে সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা যায় না। বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, আইনি কাঠামো এবং বাস্তব সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে অনেক সময় পরিকল্পিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
আলোচনার সময় প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া একজন প্রশিক্ষণার্থীর কাছেও তার অভিজ্ঞতা জানতে চান শিক্ষামন্ত্রী। জবাবে ওই প্রশিক্ষণার্থী জানান, তিনি দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে একই প্রতিষ্ঠানে দুইবার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। অতীতের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, সে সময় কয়েকটি প্রশিক্ষণ অধিবেশনের মান প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল। পাশাপাশি আবাসন ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত কিছু সীমাবদ্ধতাও চোখে পড়েছিল।
তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় সব বিষয় স্পষ্টভাবে মনে না থাকলেও সামগ্রিকভাবে প্রশিক্ষণের মান আরও উন্নত করার সুযোগ ছিল বলে তার মনে হয়েছে।
এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে যুগোপযোগী ও আরও কার্যকর করতে নিয়মিত মূল্যায়ন প্রয়োজন। প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু, প্রশিক্ষকদের দক্ষতা, অবকাঠামো এবং অংশগ্রহণকারীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হলে সরকারি সেবার মানও আরও উন্নত হবে।
তিনি সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেন, প্রশিক্ষণকে শুধু আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে না দেখে দক্ষতা বৃদ্ধির কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের গঠনমূলক মতামত গ্রহণ করে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও ফলপ্রসূ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।



