প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম
শিক্ষামন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্য ও চলমান উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার বিভিন্ন অসঙ্গতির প্রতিবাদে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড সংলগ্ন এলাকায় শত শত শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে মহাসড়কের দীর্ঘ অংশজুড়ে যানবাহনের সারি তৈরি হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, চলমান পরীক্ষার সময়সূচি প্রণয়নে বাস্তব পরিস্থিতির যথাযথ বিবেচনা করা হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষার মাঝে পর্যাপ্ত বিরতি না থাকায় তারা মানসিক ও শারীরিক চাপে পড়েছেন। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বন্যা, টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলে দাবি করেন তারা।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে অনেক পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। এমন অবস্থায় পরীক্ষার বিষয়ে আরও মানবিক ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন ছিল। তারা আরও অভিযোগ করেন, কিছু প্রশ্নের মান ও বিন্যাস পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে যৌক্তিক কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ, ফল প্রকাশের পর অকৃতকার্যদের জন্য পুনঃপরীক্ষা বা পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা, প্রশ্নপত্রের ত্রুটি সংশোধন এবং দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় পরীক্ষা স্থগিতের নীতিমালা প্রণয়ন।
একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রীর প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা দাবি করা হয়। অন্যথায় পদত্যাগের দাবিতে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যান এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। তবে শিক্ষার্থীরা দাবি পূরণের বিষয়ে স্পষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।



