প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ক ও শিক্ষার্থীদের অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে নতুন মোড় নিয়েছে আন্দোলন। পূর্বে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করলেও এখন শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবি সামনে রেখে সমাধানের পথ খুঁজতে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়েছে।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে প্রবেশের অনুমতি পায়। প্রথমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিলেও পরবর্তীতে ছয়জন প্রতিনিধিকে আলোচনার জন্য ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষা ভবনের সামনে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অবস্থান করে তাদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত পরীক্ষাগুলো পুনরায় দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা, পুনঃপরীক্ষা ও পূর্ববর্তী ফলাফলের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বরকে চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করা এবং প্রশ্নপত্রে থাকা ভুলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর প্রদান। এছাড়া মানসিক চাপ কাটিয়ে ওঠার জন্য পরীক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া, প্রশ্নপত্রের ধরনে আকস্মিক পরিবর্তনের বিষয়টি মূল্যায়নে বিবেচনা করা এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকদের আচরণ আরও সহনশীল ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার দাবিও জানানো হয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, তাদের উদ্দেশ্য কোনো অরাজকতা সৃষ্টি করা নয়; বরং ন্যায়সঙ্গত ও বাস্তবসম্মত সমাধান নিশ্চিত করা। তারা মনে করেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে অনেক পরীক্ষার্থী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, যা পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু হওয়ায় সংকট নিরসনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন আলোচনার ফলাফল এবং সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে হাজারো পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক।



