প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় একযোগে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের ফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে কয়েক মাস ধরে অপেক্ষায় থাকা লাখো শিক্ষার্থীর ফলাফল জানার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।
ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারছেন। মুঠোফোনের খুদে বার্তার মাধ্যমেও ফল জানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফলাফল দেখার সুযোগ রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলও সংগ্রহ করা যাচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত ব্যবস্থায় নিজেদের পরিচিতি নম্বর ব্যবহার করে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবে। শিক্ষার্থীদের জন্যও ব্যক্তিগত ফলাফল জানার ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। অন্যদিকে দাখিল এবং কারিগরি ধারার লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২৪ মে।
চলতি বছর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী আবেদন করেছিল। এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন শিক্ষার্থী।
ফল প্রকাশের পর এখন শিক্ষার্থীদের সামনে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি হওয়ার নতুন ধাপ শুরু হবে। ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের আবহ তৈরি হলেও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্যও সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও এটিই ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একমাত্র মানদণ্ড নয়।



