রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৪.১১ জিপিএ পেয়ে পাস, ফল জানার আগেই না ফেরার দেশে রেজা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম

৪.১১ জিপিএ পেয়ে পাস, ফল জানার আগেই না ফেরার দেশে রেজা

সংগৃহীত

এসএসসি পরীক্ষায় ৪.১১ জিপিএ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার শিক্ষার্থী কাজী রেজা (১৬)। কিন্তু নিজের অর্জনের খবর আর জানা হলো না তার। ফল প্রকাশের মাত্র একদিন আগে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় তার মৃত্যু হয়। ফলে রেজার কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের খবরটি পরিবারের কাছে পৌঁছালেও তা উদ্‌যাপনের সুযোগ হয়ে ওঠেনি।

কাজী রেজা বাহুবল উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের চক্রামপুর গ্রামের কাজী বাড়ির কাজী আলফু মিয়ার একমাত্র ছেলে। তিনি সানশাইন মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, রোববার দুপুরে হঠাৎ শ্বাসকষ্টে অসুস্থ হয়ে পড়েন রেজা। অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিয়ে স্বজনরা চিকিৎসার উদ্যোগ নেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ওই দিনই তার মৃত্যু হয়।

রেজার মৃত্যুর পরদিন সোমবার এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, তিনি ৪.১১ জিপিএ নিয়ে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। যে ফলাফলের অপেক্ষায় ছিলেন রেজা ও তার পরিবার, সেই ফল প্রকাশের আগেই তার জীবন থেমে যাওয়ায় স্বজনদের কাছে আনন্দের খবরটি পরিণত হয় গভীর বেদনায়।

সন্তানের সাফল্যের খবর একদিকে বাবা-মায়ের জন্য গর্বের হলেও তাকে হারানোর শোক সেই আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটি এখন শোকাহত। স্বজনদের পাশাপাশি রেজার সহপাঠী ও শিক্ষকরাও তার আকস্মিক মৃত্যুতে গভীরভাবে মর্মাহত।

রেজার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে চক্রামপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। সহপাঠীদের কাছে তার এমন আকস্মিক চলে যাওয়া মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এসএসসির ফল প্রকাশের দিনে যেখানে সহপাঠীরা নিজেদের সাফল্য নিয়ে আনন্দ করেছে, সেখানে রেজার পরিবারকে সন্তানের মৃত্যুর শোকের মধ্যেই তার ফলাফল জানতে হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চক্রামপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে রেজার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

মাত্র ১৬ বছর বয়সে রেজার এমন মৃত্যু পরিবার ও এলাকাবাসীর মনে গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। তার ৪.১১ জিপিএ এখন পরিবারের কাছে কোনো আনন্দের উদ্‌যাপন নয়; বরং প্রিয় সন্তানকে হারানোর বেদনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক স্মৃতি হয়ে রইল।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!