প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার বেড়েছে। তবে আগের বছরের তুলনায় সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। এবার এ বোর্ডে মোট পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৭৭৮ জন শিক্ষার্থী।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলের পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বোর্ডটির অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় মোট ৮০ হাজার ৪৫৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৩৭ হাজার ৫৪৫ জন ছাত্র এবং ৪২ হাজার ৯১৩ জন ছাত্রী।
পরীক্ষা শেষে উত্তীর্ণ হয়েছে মোট ৪৮ হাজার ৫৫৫ জন। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ১৯ হাজার ৯৫৫ জন এবং ছাত্রী ২৮ হাজার ৬০০ জন। অর্থাৎ উত্তীর্ণের সংখ্যায় এবারও ছাত্রীদের অবস্থান ছাত্রদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন ছয় জেলার ফলাফল পর্যালোচনায় পাসের হারে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে পিরোজপুর জেলা। জেলার শিক্ষার্থীরা এবার বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে।
গত বছরের ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এবার তা বেড়ে ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার বেড়েছে ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
তবে পাসের হার বাড়লেও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। এ বছর মোট ২ হাজার ৭৭৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। ফলে সার্বিক উত্তীর্ণের হার এবং সর্বোচ্চ ফল অর্জনের চিত্রে কিছুটা ভিন্নতা দেখা গেছে।
ফলাফল বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এবারও ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা ভালো ফল করেছে। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যার পাশাপাশি সামগ্রিক ফলাফলেও ছাত্রীদের এগিয়ে থাকার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পাসের হার বাড়ায় অনেক শিক্ষার্থী ও পরিবারে স্বস্তি ফিরলেও জিপিএ-৫ কমে যাওয়ায় সর্বোচ্চ ফল প্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা হতাশা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, শুধু পাসের হার বা জিপিএ-৫ দিয়ে একটি শিক্ষা বোর্ডের সামগ্রিক শিক্ষার মান নির্ধারণ করা যায় না। শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা, জ্ঞান অর্জন এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে তাদের প্রস্তুতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের এবারের ফলাফলে পাসের হার বৃদ্ধির পাশাপাশি ছাত্রীদের এগিয়ে থাকার বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ কমে যাওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করে শিক্ষার গুণগত মান আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।



