প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সুযোগ তৈরি হতে যাচ্ছে। রাজধানী বা বড় শহরে না গিয়েও এখন জেলা পর্যায়ে গুরুতর রোগীদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের ১০টি জেলা সদর হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র চালুর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা এবং সম্ভাব্য মহামারি মোকাবিলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নতুনভাবে চালু হওয়া এসব নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক—উভয় ধরনের জটিল রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।
রোববার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এসব কেন্দ্রের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, এই পদক্ষেপের ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা পেতে রাজধানীমুখী চাপ অনেকাংশে কমে আসবে।
যেসব জেলা হাসপাতালে নতুন এই সেবা চালু হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে মুন্সীগঞ্জ, টাঙ্গাইল, সুনামগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, নারায়ণগঞ্জ, যশোর, শেরপুর, মাদারীপুর ও বাগেরহাটের জেলা হাসপাতাল। এসব হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি হাসপাতালে শিশুদের শ্বাসকষ্ট বা জটিল শারীরিক অবস্থার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে অক্সিজেন সরবরাহব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে, যাতে সংকটাপন্ন রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়।
শুধু যন্ত্রপাতি নয়, এসব নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে সেবা চালুর পর রোগীদের দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এতদিন জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী বা বিভাগীয় শহরে যেতে হতো। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক চাপও বাড়ত। অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় রোগীর অবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়ত। নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যায়েই উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত হওয়ায় রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস, জেলা পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোর সক্ষমতাও বাড়বে।



